ঢাকা | জুলাই ১২, ২০২৬ - ১:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রামেবি ক্যাম্পাসের ২২ হাজার গাছ উধাও, সিন্ডিকেটের দিকে আঙুল

  • আপডেট: Saturday, July 11, 2026 - 10:49 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ভূমি উন্নয়ন কাজের নামে দেড় বছরেরও কম সময়ে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) ক্যাম্পাস থেকে ২২ হাজারেরও বেশি ফলদ ও বনজ গাছ উধাও হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিন্ডিকেট বন বিভাগের আগাম অনুমতি ও প্রচলিত নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান গাছ কেটে অপসারণ করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। রামেবি, জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের নথিপত্র এবং প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ সংক্রান্ত কিছু চাঞ্চল্যকর অসঙ্গতি বেরিয়ে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে রামেবি ক্যাম্পাসের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ জরিপে ওই জমিতে আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, নিম ও সেগুনসহ মোট ২৫ হাজার ৮৪২টি গাছ তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল এবং জমির মালিকদের গাছের ক্ষতিপূরণ বাবদ জেলা প্রশাসন থেকে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাম্পাসে মাটি ও বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অনেক মূল্যবান গাছ সরিয়ে ফেলা হয়। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পর্যায়ক্রমে তিনটি নিলাম আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় ১ হাজার ৮৫৩টি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ৭১৩টি এবং সর্বশেষ মে মাসে তৃতীয় দফায় ৭৬টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হয়। তিন দফায় মোট ২ হাজার ৬৪২টি গাছ বিক্রি বাবদ ২৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, বর্তমানে রামেবি ক্যাম্পাসে আনুমানিক ৫০০টির মতো গাছ অবশিষ্ট রয়েছে। সেই হিসাবে নিলামকৃত ২ হাজার ৬৪২টি এবং বিদ্যমান ৫০০ গাছ মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ১৪২টি গাছের হিসাব দৃশ্যমান। ফলে প্রাথমিক তালিকার বাকি ২২ হাজার ৭০০ গাছের চূড়ান্ত পরিণতি বা অবস্থান নিয়ে নথিপত্রে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিসাব অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের নির্ধারিত মূল্যায়ন থেকে তিন দফার নিলামের অর্থ এবং বিদ্যমান গাছের আনুমানিক মূল্য বাদ দিলে কাগজের হিসাবে ২ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার একটি বড় ব্যবধান বা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এই বিপুল অঙ্কের ঘাটতি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রামেবির উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক, যিনি পরবর্তীতে প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও প্রাপ্ত হন। তাঁর সময়কালেই মূলত ভূমি উন্নয়নের মূল কাজগুলো গতি পায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ক্যাম্পাসে ৫১ শতাংশ অবকাঠামো ও ৪৯ শতাংশ গ্রিন থাকবে। সেভাবেই গাছ কাটা হয়েছে। বাস্তবে ক্যাম্পাসে এখনো অনেক গাছ আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভালো বলতে পারবে প্রকৌশল দপ্তর।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি উপাচার্যের এখতিয়ারভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস