রাজশাহীতে বাসের জার্নি শেষে যুবকের গভীর ঘুম, দরজা ভেঙে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থেকে এক যুবকের এমন গভীর ঘুম, যার রেশ ধরে চলল টানটান উত্তেজনা। ঘরের ভেতর বড় কোনো অঘটনের আশঙ্কায় অবশেষে মাঝরাতে দরজা ভাঙতে হলো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে।
তবে দরজা ভাঙার পর ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত স্বজনদের চোখে-মুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি।
শনিবার (২০ জুন) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী মহানগরীর হেতম খাঁ এলাকার “নাজ গার্ডেন” ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক জেল পুলিশের চাকরিতে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে চড়ে বিকেল ৫টায় রাজশাহীতে তাঁর চাচার বাসায় আসেন। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির কারণে বাসায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকে ঘুমিয়ে পড়েন।
সন্ধ্যায় যুবকের চাচা ও চাচি বাজার থেকে ফিরে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। প্রথমদিকে বিষয়টিকে সাধারণ ঘুম মনে হলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে গভীর রাতেও কোনো সাড়া না পেয়ে ফ্ল্যাটের বাসিন্দা এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতর কোনো বড় দুর্ঘটনা বা অঘটন ঘটেছে ভেবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের শরণাপন্ন হন।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
তবে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, যুবকের কোনো ক্ষতি হয়নি; বরং তিনি বাইরের সব কোলাহল ও উত্তেজনা ভুলে পরম শান্তিতে গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন!
পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো জরুরি কলকে তাঁরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও ঘরের ভেতর বড় কোনো বিপদের আশঙ্কা থেকে দরজা ভাঙা হয়েছিল। তবে যুবকটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন এবং এটি কেবলই ক্লান্তিজাত গভীর ঘুম ছিল।











