ঢাকা | জুন ২১, ২০২৬ - ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রধান শর্ত ‘ত্রিমাত্রিক যোগাযোগ’

  • আপডেট: Saturday, June 20, 2026 - 11:33 pm

বিসিক কার্যালয়ে অংশীজনদের মতবিনিময়:

স্টাফ রিপোর্টার: কেবল ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নয়, বরং আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর অভাবে রাজশাহী অঞ্চলে আশানুরূপ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়াতে নৌ, আকাশ ও সড়ক পথের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এই ত্রিমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটানো গেলে রাজশাহী শুধু কৃষিনির্ভর থাকবে না, বরং উত্তরবঙ্গের প্রধান শিল্প ও কর্মসংস্থান হাবে পরিণত হবে।

শনিবার সকালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা’য় অংশীজন ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহীর সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের রূপান্তর ঘটানোর জন্য নৌপথের পুনরুজ্জীবনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ রেশম মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলের পণ্য পরিবহন খরচ এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনতে পদ্মা নদীর নৌপথকে পুরোপুরি সচল করার বিকল্প নেই। বিশেষ করে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া বন্দর থেকে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ (গোদাগাড়ী) এবং পরবর্তীতে রাজশাহী সদর হয়ে পাবনার রূপপুর পর্যন্ত নৌ-রুটটি নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বছরজুড়ে সচল রাখার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌপথের নাব্যতাসংকট দূর করে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা সম্ভব হলে ভারতের পাথর, ফ্লাইঅ্যাশ ও শিল্প কাঁচামাল সরাসরি কম খরচে আনা যাবে। আর এটি করা গেলে এই অঞ্চলে ভারী শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান গড়তে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হবেন।

এছাড়াও হযরত শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে বলে মতবিনিময় সভায় শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করেন মো. লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং দেশের বড় কর্পোরেট হাউসগুলোকে রাজশাহীতে আনতে হলে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়ন জরুরি। বর্তমানে ঢাকা-রাজশাহী রুটে যাত্রী চলাচল বাড়লেও নৈশকালীন (Night Landing) বিমান ওঠানামার সীমাবদ্ধতা এবং কার্গো সুবিধা না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে আছে।

এই সংকট উত্তরণে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত আম, লিচু এবং পুঠিয়া-দুর্গাপুরের শাকসবজি সরাসরি বিদেশে রপ্তানির জন্য বিমানবন্দরে ‘কার্গো ভিলেজ’ এবং কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এটি করা গেলে কৃষিনির্ভর ইকোনমিক জোনগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বাড়বে।

একইসঙ্গে সড়কপথের আধুনিকায়ন, ফোর-লেন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক হাব নির্মাণ নিয়েও সভায় বিস্তারিত কথা বলেন রেশম মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রাজশাহী পর্যন্ত অংশটি দ্রুত চার লেনে (Four-Lane) উন্নীত করার কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। এর পাশাপাশি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী-নাটোর সড়ককে আরও প্রশস্ত করতে হবে।

পাশাপাশি সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের সাথে রাজশাহীর সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা গেলে এটি একটি বড় ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে উল্লেখ করে মো. লিয়াকত আলী দাবি করেন, প্রস্তাবিত শিল্পনগরী (বিসিক-২) এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর (EPZ) শতভাগ সুবিধা পেতে হলে এই চার লেন সংযোগের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে।

রাজশাহী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক জাফর বায়েজীদ এবং বিসিক জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর উপ মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আজিম।

এছাড়াও সভায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলী, বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির (নাসিব) সভাপতি আবুল কাশেম রিজভীসহ রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস