ঢাকা | জুন ২১, ২০২৬ - ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

শ্রদ্ধা আর বেদনায় তসিকুল ইসলাম রাজাকে স্মরণ

  • আপডেট: Saturday, June 20, 2026 - 11:09 pm

স্টাফ রিপোর্টার: শ্রদ্ধা, শোক ও হারানোর বেদনায় শনিবার রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে স্মরণ করা হল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, কবি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. তসিকুল ইসলাম রাজাকে।

রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার আয়োজিত ওই শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং গ্রন্থাগারের সহ-সভাপতি টুকটুক তালুকদার। শোক সভায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অশ্রুসিক্ত নয়নে পিতার প্রতি স্মৃতি চারণ করে বক্তব্য রাখেন- একমাত্র পুত্র সাফিন ইসলাম।

স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী চেম্বার কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হাসেন আলী, প্রফেসর ড. দীপনেন্দ্রনাথ দাস, নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড শিখা সরকার, সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, বিশিষ্ট সাংবাদিক আহমদ সফি উদ্দিন, কথা সাহিত্যিক ড. নাজিব ওয়াদুদ, রাজশাহী শাহমখদুম কলেজের অধ্যক্ষ এসএম রেজাউল ইসলাম, রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. গোলাম মওলা, কবি হাসনাত আমজাদ, প্রফেসর ড. জুবাইদা আয়শা সিদ্দিকা, প্রথম আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ। এছাড়াও রাজশাহীর কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকেরাও প্রয়াত তসিকুল ইসলাম রাজার জীবন, সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।

বক্তাদের কথায়, তসিকুল ইসলাম রাজা কেবল শিক্ষক বা গবেষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুক্তবুদ্ধিচর্চার এক সাহসী অভিযাত্রী। অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল প্রতিবাদী। আধুনিক বাংলা কবিতা, ফোকলোর, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আজীবন গবেষণা করেছেন তিনি। তাঁর লেখায় যেমন শিকড়ের সন্ধান পাওয়া যায়, তেমনই উঠে এসেছে দেশ, মানুষ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তসিকুল ইসলাম রাজা রাজশাহীর গণ্ডি ছাড়িয়ে সারা দেশে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। নতুন লেখক ও গবেষকদের উৎসাহ দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় রাখতে তিনি নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজশাহীর শিক্ষা, সাহিত্য, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে নিজের লেখা, গবেষণা এবং কর্মের মধ্য দিয়েই তিনি আগামী প্রজন্মের কাছে বেঁচে থাকবেন।