ঢাকা | মে ২০, ২০২৬ - ১০:৫১ অপরাহ্ন

নগরীতে দুই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ৯ জন গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Wednesday, May 20, 2026 - 10:36 pm

স্টাফ রিপোর্টার: মহানগরীর দামকুড়া থানা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, নিহত মামুনুর রশিদ প্রতিদিনের ন্যায় গত ২ মে বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে তার অটোরিক্সা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। পরবর্তীতে রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোঃ বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে গত ২ মে কোর্ট স্টেশন হতে কাশিয়াডাঙ্গা বাজারে যাওয়ার কথা বলে মামুনুর রশিদের অটোরিক্সা ভাড়া করে। কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে তারা একটি চায়ের দোকানে চায়ের সাথে চেতনা নাশক ওষুধ মিশিয়ে মামুনুর রশিদকে খাওয়ায়। এরপর তারা সেখান হতে দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় পৌঁছলে মামুনুর রশিদ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। তখন গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা মামুনকে ফেলে দিয়ে তার অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ডিবি, আরএমপি’র একটি চৌকস টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহ্ আলী মিয়া ও তার টিম গত ১৫ মে ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ৪ জন আসামি তানভীর রানা প্রান্ত (২২), মোঃ শামীম (৩৫), মোঃ রাব্বি (২০), এবং নূর আলম (২৫)কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরও ৪ জন আসামি ওমর ফারুক বাবু (৪৩), মোঃ সেলিম (৩৫), মোঃ সুজন (৩৬) এবং রাহেনুল হক (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা, অটোরিক্সার ৪ টি ব্যাটারি ও ব্যাটারি খোলার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নিহত গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আসামিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলমান ছিল। পূর্বের সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে নিহত ব্যক্তি এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখিত ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির খোসা ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজেরা বেগম মতিহার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট থানা তা আমলে নিয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা রুজু করে। মামলার পর থেকেই জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজী ও তার টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ১ নং আসামি হাসিবুল ইসলাম (৪২), পিতা-মৃত রমজান মোল্লা, সাং-ডাঁশমারী, থানা-মতিহার, রাজশাহী মহানগরকে মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী এলাকা হতে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে