ঢাকা | মে ১৫, ২০২৬ - ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

কর্মস্থল তানোর হলেও কর্মকর্তাদের বাস রাজশাহী শহরে

  • আপডেট: Thursday, May 14, 2026 - 10:00 pm

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহী বিভাগীয় শহরে বসবাস করেই তানোর উপজেলার কর্মস্থলে নিয়মিত অফিস করছেন বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র তানোর উপজেলা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তানোরে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, হাসপাতাল ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক-নার্স এবং জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজশাহী শহর থেকে যাতায়াত করেন। তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে তানোরে এসে অফিস ধরেন এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যেই আবার শহরে ফিরে যান।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কেউ না থাকায় এসব কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে জনশূন্য ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেশির ভাগ ভবনই এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যে অঞ্চলের অর্থ সেখানেই আয় ও ব্যয় হয়, স্বাভাবিকভাবেই সে অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটে। কিন্তু তানোরের চাকরিজীবীরা তাদের আয়ের সিংহভাগই খরচ করছেন রাজশাহী শহরে। এমনকি তাদের সন্তানরাও পড়াশোনা করছে শহরের নামী-দামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কর্মকর্তা ও শিক্ষকেরা স্থানীয়ভাবে বসবাস না করায় তানোরের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হচ্ছে না। একই সাথে হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মনে জমছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তানোরে কর্মরতরা স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান না রাখায় এখানে দীর্ঘদিনেও বড় কোনো সরকারি বা বেসরকারি বিপণিবিতান (মার্কেটিং কমপ্লেক্স) গড়ে ওঠেনি। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকেও পার্শ্ববর্তী অন্য যেকোনো উপজেলার তুলনায় পিছিয়ে আছে তানোর। উপজেলা মোড় ও থানা মোড়ের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন তানোর উপজেলা গেট থেকে পৌর এলাকার বুরুজ ব্রিজ সীমানা হয়ে পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলা পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিনেও প্রশস্ত করা হয়নি।

তানোর থানা মোড়ের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী থেকে আসা বাসগুলো থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের তাড়াহুড়ো করে নামতে দেখা যায়। আবার দুপুর গড়াতেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসের অপেক্ষায় মোড়ে মোড়ে ভিড় জমান তারা। অনেক সময় বাসের আসন (সিট) পাওয়ার জন্য মহাসড়কে তাদের হুড়োহুড়ি ও দৌড়াদৌড়ি করতেও দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই নিত্যদিনের দৃশ্যটি এখন এক ধরনের হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তানোরের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের কর্মস্থলেই আবশ্যিক আবাসন ও অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।