ঢাকা | মার্চ ২৮, ২০২৬ - ১:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ

  • আপডেট: Friday, March 27, 2026 - 10:54 pm

স্টাফ রিপোর্টার: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনি এবং কালেক্টরেট চত্বরে শহিদ স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

সূর্যোদয়ের সময় রাজশাহী কালেক্টরেট চত্বরে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী স্বাধীনতাবিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একাত্তরের ঘাতক ও বিরোধিতাকারীরা জাতির কাছে চিরকাল ঘৃণিত হয়ে থাকবে, বিশ্ব ইতিহাসে হিটলার যেভাবে সমাদৃত না হয়ে ঘৃণিত হয়েছেন, তাদের পরিণতিও তেমনই হবে। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই এখন আমাদের মূল অগ্রাধিকার। সেই সাথে বেকারত্ব দূর করে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রীর সাথে এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বিভাগীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এরপর তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ জিয়াউর রহমানসহ সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি আহত ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহিদদের স্মরণ করেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত লড়াই শুরু করে। লাখো শহিদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ ডিসপ্লে পরিবেশন করে। পরে মার্চপাস্ট ও ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লর রহমান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে একইদিন বেলা এগারোটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রসমূহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দ্বারা সজ্জিতকরণ করা হয় । সন্ধ্যা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়। বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় জেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। এছাড়াও সকালে মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা ও রাখছে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলাতে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস পালন করা হচ্ছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস