অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে জ্বালানি সমাধান
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাক্সিক্ষত রূপান্তরের লক্ষে রূফটপ সোলার (ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ) প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক মোবিলাইজেশন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। কর্মসূচিটি যৌথভাবে আয়োজন করে পরিবর্তন, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-চাঁপাইনবাবগঞ্জ (FED-Chapainawabganj) ক্লিন (CLEAN) এবং ইডএঊউ-সহ স্থানীয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মসমূহ। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, যা বর্তমানে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর বিপরীতে রূফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল সমাধান হওয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। বক্তারা আরও বলেন, রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের জন্য ‘জ্বালানি গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর উপায়। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই একটি শক্তিশালী জ্বালানি রূপান্তর শুরু করা সম্ভব।
তারা উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ রয়েছে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি সাশ্রয়ী ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো: ১. ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রূফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা; ২. প্রতিটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন; ৩. সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান; ৪. জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা;
৫. পরিবেশবিনাশী জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে নেয়া পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রূফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার না দিলে ভবিষ্যতে দেশ আবারও ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।











