রাজশাহীতে উৎসব ছাড়াই বই বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে পড়ায় এ বছর উৎসব ছাড়াই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন বই।
নতুন বছরের প্রথম দিনে হাতে নতুন পাঠ্যবই- এই আনন্দই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। নতুন বইয়ের গন্ধ, ঝকঝকে মলাট আর নতুন পাঠের হাতছানি শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি করে উদ্দীপনা। তাই বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই তুলে দেয় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। মাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু বই এখনো না পৌঁছালেও প্রাথমিকের চাহিদার শতভাগ বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরসমূহ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রি-প্রাথমিকে জেলায় মোট চাহিদা ৪১ হাজার ৬২৬টি এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জেলায় চাহিদা মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদার শতভাগ পাঠ্যবই ইতিমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেছে। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রি-প্রাথমিকের জেলায় মোট চাহিদার ৪১ হাজার ৬২৬টি বই এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চাহিদার মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে।
তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে বই সরবরাহে এখনো ঘাটতি রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান জানান, জেলায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫ কপি, যা মোট চাহিদার ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ কপি, অর্থাৎ ৬৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দাখিল ও ইবতেদায়ী পর্যায়ে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১০১ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ১৭১ কপি, যা ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। জেলা শিক্ষা অফিসার আরও বলেন, যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলো ইতিমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো এসে পৌঁছায়নি। অবশিষ্ট বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বই আসামাত্রই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগ্রহ তৈরি করে। তাই অবশিষ্ট বই দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।











