ঢাকা | অক্টোবর ২৫, ২০২৬ - ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী নগরীতে শীতকালীন সবজির বাজার চড়া

  • আপডেট: Saturday, October 24, 2026 - 10:31 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাজারে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি উঠতে শুরু করলেও কমেনি দাম। টমেটো, শিম, লাল বেগুন, গাজর ও কাঁচা মরিচসহ কয়েকটি সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁপে, শাক ও লাউসহ কিছু সবজির দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। এদিকে বাজারে মৌসুমি বৈচিত্র্য বাড়লেও ডিম, মুরগি ও মাছের বাজারে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার সকালে নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুঁইশাক ১০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কাঁচা কলা ২৫ টাকা হালি, লাউ ৩০ টাকা পিস, পটল ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, ওল ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচু লতি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, সাদা বেগুন ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, লাল বেগুন ৮০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০-১০০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শিম ৮০-১০০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে শীতকালীন সবজি আসা শুরু করায় বৈচিত্র্য বাড়লেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি। বিশেষ করে টমেটো, শিম, বেগুন, গাজর ও কাঁচা মরিচের দাম বেশি থাকায় সীমিত আয়ের মানুষদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। বাজার করতে আসা সাজু শেখ বলেন, “বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে, কিন্তু দাম এখনো কমেনি। কিছু সবজি কম দামে পাওয়া গেলেও বেশ কয়েকটি সবজির দাম অনেক চড়া। ফলে চাহিদামতো সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এদিকে ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭০  টাকা, হাঁসের ডিম ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ৪৪ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রয়লার ও সোনাসহ মুরগির বাজারেও দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতি কেজি রুই ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চাষের শিং ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং কোরাল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়লেও মৌসুমের শুরু হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আগামী দিনে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। সবজি বিক্রেতা আলাল উদ্দিন বলেন, “শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সরবরাহ এখনো পুরোপুরি বাড়েনি। তাই কিছু সবজির দাম বেশি রয়েছে। সামনে সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমে আসবে।” ডিম ব্যবসায়ী শফিক জানান, গত এক মাস ধরে ডিমের দাম বাড়তি রয়েছে। সাধারণত ডিমের বাজারে ওঠানামা থাকলেও গত এক মাস ধরে দাম একই অবস্থায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস