ঢাকা | অক্টোবর ১৫, ২০২৬ - ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পরীক্ষকের বাসায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে ফের লেখার সুযোগ: তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত

  • আপডেট: Wednesday, October 14, 2026 - 10:31 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী শিক্ষকের বাসায় গিয়ে পরীক্ষার্থীর পুনরায় উত্তর লেখার আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনাটির সত্যতা পেয়েছে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ২টি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে লেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা মূল্যায়ন করে নম্বরও দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা নিয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পর্যালোচনা শেষে বোর্ডের নীতি নির্ধারকেরা অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে গত সোমবার সচিবের কাছে সিলগালা অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

প্রকাশিত সংবাদ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর লিখে এসেছিল বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। উত্তরপত্রে পাওয়া সেই নম্বরে যোগাযোগ করে গত ১৪ আগস্ট তাকে নিজ বাসায় ডেকে নেন রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়নকারী সেকেন্দার আলী। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি ওই পরীক্ষার্থীকে পুনরায় উত্তর লেখার বেআইনি সুযোগ করে দেন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষক সেকেন্দার আলী উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর বোর্ডে জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তা জব্দ করা হয়। হস্তাক্ষর ও উত্তরপত্র পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, মেহেদী হাসানকে দ্বিতীয় দফায় নতুন করে উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং খাতায় নম্বরে কাটাকাটি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) ইব্রাহিম হোসেন জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের শতভাগ সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, উত্তরপত্রের ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তরে মেহেদী হাসান প্রথমে কোনো নম্বর পায়নি। পরবর্তীতে তাকে শিক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে প্রশ্ন দুটির উত্তর নতুন করে লেখানো হয় এবং সেগুলোতে নম্বরও বসানো হয়। উত্তরপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত পরীক্ষক সেকেন্দার আলীকে আজীবনের জন্য বোর্ডের সব ধরণের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে কালো তালিকাভুক্ত (নিষিদ্ধ) করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থী মেহেদীর ফল স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনাধীন। শিক্ষা বোর্ডের আসন্ন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তদন্ত কমিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেছে। ফলে বিষয়টি অধিকতর ছায়াতদন্তের জন্য গোয়েন্দা সংস্থায় পাঠানো হবে।