ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ - ১১:১২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রামেক হাসপাতালে ১ মাসে ১২ মৃত্যু, আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

  • আপডেট: Wednesday, September 30, 2026 - 10:20 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। জ্বর নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তির অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। সাধারণ জ্বর বা প্লাটিলেট হ্রাসের ধাপ পেরিয়ে আক্রান্তদের অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন ভয়ঙ্কর ‘ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম’ (ডিএসএস) ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা ‘মায়োকার্ডাইটিস’-এ।

হাসপাতালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সমসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ১১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার বিপরীতে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বরাদ্দ বেড রয়েছে মাত্র ৪৫টি। চাপ সামলাতে চলতি সপ্তাহেই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ৬০টি বেড বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রামেক হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ জুন থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন ৮৭২ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৫ জন। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন, কুষ্টিয়ার ২ জন এবং পাবনা, নাটোর ও ঝিনাইদহের ১ জন করে রয়েছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ৩১ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর—এই এক মাসের মধ্যেই ১২ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুর কারণ ছিল ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাঘার চার বছরের শিশু মাইশা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, সচেতনতার অভাবে রোগীরা একদম শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসায় মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম. আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে বাসায় চিকিৎসা নিয়ে অবহেলা করার কারণে রোগীরা শক সিন্ড্রোম বা মায়োকার্ডাইটিসের মতো জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছেন। তারা জ্বর হওয়ার সাথে সাথে এনএস-১ পরীক্ষাসহ দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা ও নার্স সংকট।

এ ছাড়া হাসপাতালে অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন। এডিস মশার প্রজনন রোধে রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা বাসাবাড়ির জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কারে জনসচেতনতার ওপর জোর দেন।

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ অভিযান চলছে। অন্যদিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অভিযানের অধীনে জেলার ৯টি উপজেলার ৭৮টি স্পটে প্রতি শনিবার একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস