রাজশাহীতে বিপৎসীমার নিচে পদ্মার পানি, আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই
স্টাফ রিপোর্টার: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও এবং উজান থেকে ফারাক্কা ব্যারেজের গেট খুলে দেয়া সংক্রান্ত খবরের উদ্বেগের মাঝেও আপাতত রাজশাহী মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।
ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে পানি প্রবাহের কারণে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ২ মিটারের বেশি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত পানির প্রভাবও আগামী অন্তত পাঁচ দিনে এই অঞ্চলে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে নদী তীরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর রক্ষা বাঁধকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৯৫ মিটার। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় একই পয়েন্টে ১৬ দশমিক ০০ মিটারে পৌঁছেছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, সামান্য বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ০৫ মিটার নিচ দিয়ে স্বাভাবিক গতিতেই বইছে।
সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান আঙ্কুর গণমাধ্যমকে জানান, পদ্মার পানি প্রবাহ বর্তমানে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। উজান থেকে ফারাক্কা দিয়ে পানি আসার যে বিষয়গুলো আলোচনায় আসছে কিংবা নেপালের দুর্যোগের কারণে যে বিপুল পানি জমা হয়েছে, তার প্রভাব আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে আমাদের এই অঞ্চলে পড়ার কোনো আভাস নেই।
ফারাক্কার বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের খবর এলেও পানির সার্বিক উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীতে আপাতত বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ নেই। তবে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং নগরীকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে রাজশাহী সিটি প্রটেকশন বা শহর রক্ষা বাঁধকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
এদিকে লঘুচাপ ও দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে উদ্বেগজনক কিছু পূর্বাভাসের কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি-ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। লঘুচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হলে বেশ কিছু নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু নিম্নাঞ্চলে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মনু, খোয়াই ও খোলাই নদীর পানি বেড়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় এগুলো আরও বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, যা হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলকে সাময়িকভাবে প্লাবিত করতে পারে। এ ছাড়া সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, সলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি দ্রুত বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাড়তে পারে।
অবশ্য গঙ্গা-পদ্মা নদী অববাহিকার ক্ষেত্রে আশার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং আগামী অন্তত পাঁচ দিন এই নদীগুলোর পানি সমতল একইভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত থাকলেও এবং দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে সেগুলোতে সাময়িক বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
সারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকলেও গঙ্গা-পদ্মা নদীর অববাহিকা সুরক্ষিত থাকায় এবং নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা অবশিষ্ট থাকায় ফারাক্কার উজান থেকে আসা তথ্য বা লঘুচাপের প্রভাব কোনোটিই এখনই রাজশাহী অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হচ্ছে না। সব মিলিয়ে সীমান্ত পার হয়ে আসা পানি ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড নিশ্চিত করেছে, রাজশাহী মহানগরে আপাতত বন্যার কোনো ঝুঁকি নেই।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











