ঢাকা | অগাস্ট ২৮, ২০২৬ - ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

সার সংকট নেই, কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

  • আপডেট: Thursday, August 27, 2026 - 10:27 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে আমন চারা রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা এখন কমেছে; বিপরীতে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

জেলার গুদামগুলোতে বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার, অর্থাৎ ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা মজুত আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দও ডিলারদের দেয়া হয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সমসাদিপুর এলাকার ডিলার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি ডিলারদের গুদামে সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান। সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চলতি আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় আরও অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।’ জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রাজশাহীতে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা এখন তেমন বেশি নেই। আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। এ মুহূর্তে জেলায় ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো পর্যায়েই যাতে কৃষকেরা হয়রানি বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নজরদারি করছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, একজন ডিলার সরকারি বরাদ্দ থেকে কতটুকু সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু গুদামে মজুত রেখেছেন এবং দিন শেষে কতটুকু সার বিক্রি করেছেন এর হিসাব প্রতিদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এর মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কালোবাজারি ও অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলাগুলোতে মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।