ঢাকা | অগাস্ট ২৭, ২০২৬ - ১১:৩৪ অপরাহ্ন

সালিশে দেড় লাখ জরিমানা ৫০ হাজার মজুরি নিলেন চেয়ারম্যান

  • আপডেট: Thursday, August 27, 2026 - 10:38 pm

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: পারিবারিক জমির বিরোধ মীমাংসায় সালিশ বসেছিল দুই দিন। বিরোধ মিটলো, জমি ছাড়ার বিনিময়ে নির্ধারিত হলো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই টাকা পুরোটা ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছায়নি।

ভুক্তভোগীর হাতে ১ লাখ টাকা দেয়া হলেও বাকি ৫০ হাজার টাকা সালিশের ‘খাটুনির /মজুরি’ হিসেবে রেখে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর নামক গ্রামে।

অভিযোগকারী নুর ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগমের দাবি, চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গত ১৭ই আগষ্ট সোমবার ও ১৮ই আগষ্ট মঙ্গলবার দুই দিন ধরে সালিসের পর জমির বিরোধ মীমাংসা হয়। সেখানে নুর ইসলামকে জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তাহমিনা বেগম বলেন, ১৯ আগস্ট বুধবার ওই টাকা আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে দেওয়া হয়। পরদিন রাতে চেয়ারম্যান তাঁদের ডেকে নিয়ে তাঁর হাতে ১ লাখ টাকা ধরিয়ে দেন। বাকি ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রেখে দেন চেয়ারম্যান। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, “চেয়ারম্যান আমার হাতে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। আর ৫০ হাজার টাকা তিনি রেখে দিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আমরা খেটেছি, আমরা খাব না?”

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ আগস্ট বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে তাঁদের বাড়ির সামনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে জমির বিরোধ নিয়ে সালিস হয়। পরদিন ১৯ আগস্ট টাকা দেওয়ার পর ২০ আগস্ট রাতে তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে ডেকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা বলছে, সালিশের খরচ বাবদ নুরে আলম বাবুর পক্ষ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছিল। এ ছাড়া বকশিশ দেওয়ার কথাও ছিল। নুরে আলমের পক্ষে মুমিন নামে এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের কাছে টাকা পৌঁছে দেন ।

তবে ইউপি সদস্য মাহাতাব আলী প্রামাণিকের বিরুদ্ধে বিচারের আগে ২০হাজার টাকা নেয়ার যে অভিযোগ করেছে তাহমিনা বেগম, কিন্তু ইউপি সদস্য মাহাতাব আলী প্রামানিক তা তিনি অস্বীকার করেছেন।

মাহাতাব আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। টাকা-পয়সার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। ওই নারী একবার চেয়ারম্যানের কথা বলছেন, আবার আমার কথাও বলছেন। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে বলেন, “সালিশে বিরোধ মিটলে এক পক্ষ জমি পায়, আর চেয়ারম্যান পান ‘খাটুনির মজুরি’ এমন অভিযোগই এখন এলাকায় আলোচনার বিষয়।

অভিযোগের বিষয়ে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল কবির পল্টন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিক চক্রান্তে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।