নগরীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে শিক্ষিকার মানসিক হয়রানি, তদন্তের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক শিক্ষিকার রূঢ় আচরণ, অবজ্ঞা ও মানসিকভাবে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
কোমলমতি একটি শিশুর প্রতি শিক্ষকের এমন আচরণে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বোয়ালিয়া থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এই তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মীমের বাবা মো. লিটন হোসেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি বিদ্যালয়ের ‘নূপুর’ নামের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নিজের মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা এবং মানসিকভাবে হয়রানীর অভিযোগ আনেন। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু মীমের সঙ্গে ওই শিক্ষিকা এমন রূঢ় ও বৈষম্যমূলক আচরণ করেন, যা তার কোমল মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
এমনকি ক্লাসে প্রথম হওয়া এই শিশুটিকে পড়াশোনায় নিরুৎসাহিত করার মতো কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনার নিরাপদ পরিবেশ ও মানসিক স্বস্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা তাকে ভয়হীন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মায়ের ভাষ্যমতে, ক্লাসে নিয়মিত প্রথম হওয়া মীমের প্রতি ওই শিক্ষিকার বৈষম্যমূলক আচরণের মূল কারণ তাঁর নিজের মেয়েও একই ক্লাসে পড়ে। সম্প্রতি ক্লাসে পড়া শেষে মীম আগে খাতা দেখাতে গেলে ওই শিক্ষিকা রাগান্বিত হয়ে তাকে সবার সামনে হেয়প্রতিপন্ন করে কথা বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি মীমকে বাইরে থেকে তাঁর নিজের মেয়ের জন্য পানি এনে দিতেও বাধ্য করেন। একজন শিক্ষকের এমন অন্যায় আচরণ ও অবজ্ঞার পর থেকে ভয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুটি আর স্কুলেই যেতে চাইছে না। শিক্ষকের ভূমিকা যেখানে অভিভাবকতুল্য ও স্নেহের হওয়ার কথা, সেখানে নিজ সন্তানের স্বার্থ তুলে ধরতে গিয়ে অন্য শিশুর প্রতি এ ধরনের মনোভাবকে শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমা হক জানান, যেখানে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীই পাওয়া যায় না, সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে তিনি অত্যন্ত ভদ্র হিসেবেই জানেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষিকা নূপুর দাবি করেছেন, সেদিন প্রক্সি ক্লাসে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তাঁর মেয়ে খুব একটা ভালো শিক্ষার্থী নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, মীমের তৈরি করা একটি সাজেশন তিনি অনুমতি নিয়ে ছবি তুলেছিলেন মাত্র। খারাপ আচরণ করলে শিশুটি তাকে ছবি তুলতে দিত না বলে দাবি তাঁর।
তদন্তের বিষয়ে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা সংবলিত চিঠি তিনি পেয়েছেন। নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যেই নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বিষয়টি সরেজমিন তদন্তের প্রয়োজনে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ চিঠির অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











