ঢাকা | অগাস্ট ১৮, ২০২৬ - ১০:৫২ অপরাহ্ন

আলফ্রেড সরেনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

  • আপডেট: Tuesday, August 18, 2026 - 10:39 pm

মহাদেবপুর প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর গ্রামে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা শহিদ আলফ্রেড সরেনের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার তাঁর নিজ গ্রামে স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে ভূমি, জীবন ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পতাকাতলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা। নওগাঁ জেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি আমিন কুজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মার্ডি। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়। এ

ই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুধীর তির্কী, দপ্তর সম্পাদক প্রদীপ লাকড়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুপচান লাকড়া, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, নওগাঁ জেলার সভাপতি দীপঙ্কর লাকড়া, সাধারণ সম্পাদক নয়ন পাহান, নারী নেত্রী নিতি মুন্ডা,সাপাহার সভাপতি স্বপন পাহান, যুবনেতা উত্তম কুমার দাস ও ছাত্র নেতা কাজল মার্ডীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও নওগাঁ জেলার ভিমপাড়া গ্রামে ভূমিপুত্র আলফ্রেড সরেনের শহিদ দিবস উপলক্ষে রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি, অধিকারভিত্তিক উত্তরবঙ্গ জোট এবং সিসিবিভিও, রাজশাহীর প্রতিনিধিবৃন্দ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সকল শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়।

দিবস পালনের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সভাপতি অধ্যাপক আবদুস সালাম, নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, রক্ষাগোলা মডেলের সমন্বয়কারী আরিফ ইথার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার সুজন ও ঊর্ধ্বতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী। রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সুধীর সরেন, সিষ্টি বারে, ধনাই সরেন ও জুলিতা মুর্মু। অধিকারভিত্তিক উত্তরবঙ্গ জোটের অন্যতম সদস্য মেরিনা হাঁসদা ও থাদিয়াস বিশ্বাস।

২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুরে আলফ্রেড সরেনকে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যু আদিবাসী অধিকার আন্দোলনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ভীমপুরে তাঁকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

স্মরণসভা শেষে নেতারা আলফ্রেড সরেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ভূমি, ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।