মান্দায় মসজিদে কুপিয়ে জখম মামুনের ইন্তেকাল
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় মসজিদের ভেতরে ঢুকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা মামুনুর রশিদ মামুন (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মামুনুর রশিদ মামুন উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মকছেদ আলী ওরফে কটার ছেলে। গত ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজের সময় শামুকখোল গ্রামের একটি মসজিদে তাঁকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে তাঁর আপন শ্যালক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ চলাকালে ইসমাইল হোসেন হাঁসুয়া হাতে মসজিদের বাইরে অবস্থান করছিলেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি মসজিদের ভেতরে ঢুকে মামুনুর রশিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হাঁসুয়ার আঘাতে মামুন গুরুতর আহত হলে ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় মামুনের স্ত্রী নেহেরা খাতুন বাদী হয়ে তাঁর ভাই ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামুনের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মামুন ও ইসমাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে ইসমাইল মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জের ধরে এর আগেও মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মসজিদের ভেতরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এখন মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।











