রাজশাহীতে ট্রাক শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে পাল্লাপাল্টি কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টার শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে পৃথকভাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বিবাদমান দুই গ্রুপ।
শনিবার সকাল ১১ টায় রাজশাহী নগরীর সপুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওদাপড়ার ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনের আয়োজন করেন ইউনিয়নের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন। তার দাবি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কিছু শ্রমিক নামধারী লোকজন ইউনিয়ন দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১৭ সালের পর ইউনিয়নে সাধারণ সভা ও সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। তারা দ্রুত নির্বাচন দাবি করেন। শ্রমিকদের মেয়ের বিবাহ ভাতা, ছেলের শিক্ষা ভাতা ও মৃত্যুকালীন অনুদান পরিশোধের কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। এতে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি ও সংগঠনের সংগঠনিক কার্যক্রম চরম ক্ষতি হচ্ছে। এনিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাজ্জাদ হোসেন ও হুমায়ুন কবির ছাড়াও বেশ কয়েকজন ট্রাক শ্রমিক। তবে গত শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির থেকে সাজ্জাদ হোসেন তার কন্যা বিবাহ ভাতা হিসেবে টাকা নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে- তিনি কিছু কাজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। একই সঙ্গে টাকা গুণে নিচ্ছেন। বর্তমান কমিটির থেকে কন্যার বিয়ের ভাতার টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘কন্যার বিয়ের জন্য আমরা ৪০ হাজার টাকায় পাই। কিন্তু আমাকে ঠিকমত দেয়া হয়নি। বিগত কমিটি দিয়েছে ২০ হাজার ও বর্তমান কমিটি দিয়েছে ২০ হাজার। অনেক শ্রমিকরা এসব ভাতার টাকা পাইনি।’ তিনি বলেন, বর্তমান সভাপতি মাইনুল হক মানা ফ্যাসিসের দোসর। আমরা চাই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হোক। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা সুষ্ঠ নির্বাচন হোক। নির্বাচন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন করা হবে। একই সঙ্গে ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান বন্ধ করে দেয়া হবে।
অপরদিকে, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মাইনুল হক মানা ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান কমিটির নির্বাচনি বিষয়ে আইনী বৈধতা রয়েছে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে এই কমিটির। বিরোধী পক্ষের অকাল নির্বাচনের দাবি ভিত্তিহীন। পূর্ববর্তী কমিটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা রেখে গেছে। বর্তমান প্রতিকূল অবস্থায় শ্রমিকদের সীমিত আয়ের মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে দেনা পরিশোধের জন্য বিগত কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণের কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইউনিয়নের সভাপতি মাইনুল হক মানা বলেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিসটরা ইউনিয়ন চালিয়েছে। সেই সময় আমাকে ২৮দিন জেলে থাকতে হয়েছে। ফ্যাসিস হলে জেলে যেতে হতো না। তখন সাজ্জাদরা ফ্যাসিটদের দলে ছিল। এখন পোশাক পাল্টিয়েছে। সরকার পতনের পরে সবাই পালিয়ে ছিল। সাবেক কমিটির সবাইকে চিঠির মধ্যেমে ইউনিয়নে ডাকা হয়েছিল। যেনো তারা ইউনিয়নের হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দেয় পরিচালনা কমিটিকে। কিন্তু একাধিকবার চিঠি দিলেও তাদের থেকে কোন উত্তর আসেনি। ফলে আইনীপ্রক্রীয়া ও ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর ১২৫টা কন্যা বিদায়, ৩৫টা শিক্ষাভাতা ও আর ৬৮টা মৃত্যুকালীন অনুদান দেয়া হয়েছে। যা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা। মানববন্ধন করা সাজ্জাদ হোসেনও কন্যার বিয়ের জন্য টাকা নিয়েছেন বর্তমান কমিটির থেকে। আমরা চাই সবাই মিলে এই সংগঠন চালাবো। আমাদের কোন বিষয়ে অসঙ্গতি থাকলে আপনারা গঠনমূলক সমালচনা করুন। তা না করে একটি পক্ষ চাচ্ছে সংগঠনের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। তাহলে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবেন। কিন্তু সেই সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মধু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোশিব শাহ, সহ সাধারণ সম্পাদক শামীম মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক আলী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব আলী ও দপ্তর সম্পাদক মাজদার হোসেন প্রমুখ।











