ঢাকা | অগাস্ট ৯, ২০২৬ - ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ, আটকে ৩৫ বাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ

  • আপডেট: Saturday, August 8, 2026 - 10:21 pm

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলা নদীর ওপর প্রায় ৩০ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে এক বছর ধরে। আটকে আছে ৩৫টি বাড়ির ভূমি অধিগ্রহণ ও বর্ষার অজুহাতে কাজ শুরুর দেড় বছরে অন্তত ৪ বার বন্ধ হয়েছে নির্মাণকাজ। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তিন ইউনিয়নের এক লাখ ১৫ হাজার ভোটারসহ সোয়া দুই লাখ জনগোষ্ঠী।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা কমলেই শুরু হবে পিলারের কাজ। জমি অধিগ্রহণ ও বাড়ি উচ্ছেদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিবগঞ্জের উত্তর-পশ্চিমের ৩ ইউনিয়ন মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুরের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। শিবগঞ্জ বাজার থেকে পাগলা নদীর সেতু হয়ে ৩টি ইউনিয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় পাগলা নদীর উপর ৯ জনের দুই একর ৩৯ শতক জমি ১৯৯১-৯২ সালে অধিগ্রহণ করে নির্মাণ করা হয় বেইলি ব্রিজটি। দীর্ঘদিন পরে ব্রীজটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে পাশেই ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর সেতুর নির্মাণের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীরা জানায়, বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এর প্রবেশমুখে ইটের পিলার বানিয়ে তিন বছর ধরে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে দুর্লভপুর, বিনোদপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনার জন্য ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে কানসাট ব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বাড়ছে পরিবহন খরচ। ব্রিজটি জরাজীর্ণ, সরু ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সারাদিন যানজট লেগেই থাকছে। স্টিলের পাটাতন কয়েক দফা ভেঙে পড়ে যাওয়ার পর মেরামত করে সচল রাখা হয়েছে সেতুটি।

শিক্ষার্থী-শিক্ষক, এলাকাবাসী বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে আসা ও যাবার সময় পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সেতুটি পার হতে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভোগ বাড়ে দ্বিগুণ। দীর্ঘদিনেও এর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। ব্যস্ততম এ সেতুটি নির্মাণে ধীরগতি চরমে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে শিগগির সেতু নির্মাণের দাবি তাদের।

এদিকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। গত দেড় বছরে তিন বছর মেয়াদী এ সেতুর কাজ হয়েছে মাত্র ৬৫ ভাগ। আগামী নভেম্বরে ব্রিজের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ ও বর্ষা মৌসুমের দোহায় দিয়ে এক বছর ধরে কাজ বন্ধ।

জমির মালিক দাবীকারীরা জানায়, ৩৫টি বাড়ি ও কয়েকটি দোকানে নোটিশ দেয়া হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে এর নির্মাণ কাজ। তাদের একমাত্র বাসস্থান থেকে উচ্ছেদের আগে নায্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। ভূমি মালিক দাবীকারী ও প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার জন্য জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন দুলর্ভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আজম। সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাহিন আলমের দাবি- বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য আটকে আছে নির্মাণ কাজ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সাহিনুল ইসলাম জানায়, সেতুর দুই দিকের সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও বাড়ি উচ্ছেদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বর্ষা কমলেই শুরু হবে মাঝের পিলারের কাজ।