ঢাকা | জুলাই ১৩, ২০২৬ - ১:৩৯ পূর্বাহ্ন

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সংম্মেলন

  • আপডেট: Sunday, July 12, 2026 - 9:23 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বৈধভাবে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা, সেচের পানি বন্ধ করে কৃষিকাজে বাধা, হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি থেকে উৎখাতের চেষ্টা করছে।

রোববার বিকেলে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজার আরএস-২০ খতিয়ানের ১০১ নম্বর দাগসহ কয়েকটি দাগের জমি নিয়ে ১৯৮১ সালে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। পরে ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দুটি দলিলের মাধ্যমে ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করি। বর্তমানে ওই জমি আমাদের নামে নামজারি হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে তাদেরকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) এবং পাশের ব্যক্তিগত সেমি-ডিপকল থেকে তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ একই ডিপ থেকে আরও দূরের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো বর্গাদারকেও জমি চাষ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলামের ভাষ্য, স্থানীয় আইনজীবী জিয়াউল হকের ওই জমিতে কোনো বৈধ মালিকানা নেই। তবুও তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে মব সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এ ছাড়া প্রায় দুই বছর ধরে তাকে গুম, খুন, বাড়িতে আগুন দেয়া এবং ফসল নষ্ট করার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলাম আরও জানান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার দলিল, আদালতের রায় ও ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে যাচাই, বৈধ জমির দখল নিশ্চিত, সেচের পানি সরবরাহ চালু, দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আইনজীবী জিয়াউল হক বলেন, আমার চাচা আব্দুল জাব্বার সরকার আমাদের না বালক থাকাকালিন জমিটি রিয়াজুল ইসলামকে সলেনামা করে দেন। তবে পরে ওই সলেনামাটি চ্যালেঞ্জ করা হয়। আদালত তার রায়ে সলেনামাটি ডিক্রি হয় নাই বলে জানান। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিক আমরাই।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।