ঢাকা | জুলাই ৯, ২০২৬ - ৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চারঘাটে সাত বছরের শিশুকে ও পুঠিয়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

  • আপডেট: Thursday, July 9, 2026 - 1:35 am

চারঘাট প্রতিনিধি: চারঘাটে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৭) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে পুঠিয়া উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে চারঘাট স্লুইসগেট সংলগ্ন হঠাৎপাড়া এলাকায় শিশু ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম শ্রী দেব (২১)। সে ওই এলাকার শ্রী জয়ের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দেব পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শিশুটি চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে তার মা তাকে গোসল করানোর জন্য খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেবের বাড়ির বারান্দায় শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি তার মাকে জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে দেব তাকে কেক খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতর ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত দেব কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্বজন ও প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ঘটনাটি জানার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে। এ ঘটনায় চারঘাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই অপরাধের বিচার দাবি করে দেবের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

পুঠিয়া প্রতিনিধি জানান, পুঠিয়া উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৪) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও ধারাবাহিকভাবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিলমাড়িয়া গ্রামের কিশোরী (১৪) পুঠিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান এবং প্রায় এক বছর আগে তাঁর মা কর্মসূত্রে জর্ডানে চলে যান। এরপর থেকে তিনি তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। একই এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ শাওন (২০) সম্পর্কে ওই কিশোরীর প্রতিবেশী ও মামাতো ভাই। পারিবারিক ও প্রতিবেশী সম্পর্কের কারণে অভিযুক্ত যুবকের তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে এক রাতে অভিযুক্ত তাঁকে বাড়ির সামনে থেকে ডেকে নিয়ে বিলমাড়িয়া গ্রামের একটি আমবাগানে যান এবং সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় ও তারিখে একই স্থানে নিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৫ জুন রাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুঠিয়া থানার কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’