ঢাকা | জুন ৩০, ২০২৬ - ২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ভাঙন আতঙ্কে যমুনাপাড়ের মানুষ নদীগর্ভে বিলীনের পথে স্কুল

  • আপডেট: Monday, June 29, 2026 - 10:28 pm

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: একদিকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রতিদিন একটু একটু করে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সিরাজগঞ্জের যমুনার তীরঘেঁষা মানুষের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জেলার সদর, চৌহালী ও কাজীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দুটি স্থান, ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এবং সর্বশেষ ২০ জুন সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে ডান তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড় কয়ড়া, বর্ণি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রামে ভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া জানান, বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বর্তমানে দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে শিক্ষার্থীদের বিকল্প ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনটি ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ৪ লাখ টাকায় নিলাম করা হয়েছে। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরটিও এখন ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুস ছালাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর মাঝখানের চরটি বিলীন হয়ে গেছে, যার কারণে এখন মূল ভূখণ্ডে ভাঙন তীব্র হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।