ঢাকা | জুন ২৯, ২০২৬ - ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে নিয়মবহির্ভূত আয়োজনে তালন্দ কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা আবারও স্থগিত

  • আপডেট: Sunday, June 28, 2026 - 10:35 pm

তানোর প্রতিনিধি: নিয়মবহির্ভূত আয়োজনের কারণে রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার তালন্দ ললিত মোহন কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়েই ফিরে গেছেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও ডিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কলেজ চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে পরীক্ষার্থী ও স্থানীয়দের একাংশ কর্মকর্তাদের সাথে তর্কে জড়ালে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পরীক্ষার্থীদের অন্তত ৩ দিন আগে চিঠি দিয়ে অবহিত করতে হয় এবং নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ রোববার দুপুর আড়াইটায় পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিকে সকাল ১০টার দিকে চিঠি দেন।

এমন অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা না নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই নিয়ে ৩য় বারের মতো কলেজটির অধ্যক্ষ ও ৪ জন কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হলো। এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি এবং ১৬ জানুয়ারিও বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে সাবেক অধ্যক্ষ সেলিম উদ্দিন কবিরাজ রাজনৈতিক প্রভাবে সভাপতি মনোনীত হন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন এবং তড়িঘড়ি করে নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, সময় ও আয়োজনের ত্রুটির কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের জন্য ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কলেজ সভাপতি সেলিম উদ্দিন কবিরাজও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, কমিটির সিদ্ধান্তের কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, এখানে প্রশাসনের কিছু করার ছিল না। পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে তাদের নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।