গোদাগাড়ীতে বিএমডিএ’র পরিত্যক্ত গভীর গর্তে পড়ে এবার মহিষের মৃত্যু
গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে (গভীর গর্ত) পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর এবং ৪ ফুট ব্যাসের সংকীর্ণ বোরহোল থেকে মহিষটিকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টর্চলাইটের আলোতে মহিষটিকে দেখলেও কোনো নড়াচড়া না থাকায় সেটি ভেতরেই মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হতভাগ্য মহিষটির মালিক বিকাশ খা খা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ের একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি জানান, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি দুটি মহিষ কিনেছিলেন, যার জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মহিষ দিয়ে হালচাষ করেই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। দুটি মহিষের মধ্যে উপার্জনের প্রধান উৎসটি এভাবে মারা যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।
বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা বলেন, বিকেলে মহিষটি দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ ওই বোরহোলে পড়ে যায়। খবর পেয়ে বাবা ঘটনাস্থলে এসে মহিষের অবস্থা দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে সেবা দিয়ে সুস্থ করেন। আমাদের বড় সংসার, বাবা এই মহিষ দিয়ে হালচাষ করে আমাদের চালান। এখন সংসার কীভাবে চলবে, সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কয়েকজন ব্যক্তি এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বোরহোল খনন করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও বিপজ্জনক গর্তটি অরক্ষিত ও খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। সংশ্লিষ্টদের চরম গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবারটির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বিএমডিএ বোরহোলে পড়ে সাজিদ নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজশাহী বিভাগের সব পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত ভরাট বা বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে শাহানাপাড়া গ্রামের এই বোরহোলটি এখনো বিপজ্জনকভাবে খোলা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে উদ্যোগী দলটির অন্যতম সদস্য নাসির উদ্দিন বাবু বলেন, কয়েকজন মিলে ওই স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। খননের পর পানির স্তরও পাওয়া যায়। তবে জমির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেয়ায় প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ভবিষ্যতে নলকূপ স্থাপনের আশা থেকেই মূলত বোরহোলটি বন্ধ করা হয়নি। মহিষের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়ে একটি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।











