লালপুরে পদ্মার চরে নৌকায় গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ৮ দিনে দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা থেকে সাহাবুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার পদ্মা নদীর রাইটার চর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাহাবুল ইসলাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর গ্রামের ইউনুছ প্রামাণিকের ছেলে। গত ৮ দিনের ব্যবধানে উপজেলার চরাঞ্চল থেকে এটি দ্বিতীয় গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনা।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে এসে নদীর কিনারা সংলগ্ন এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী রবিউল ইসলাম (৩৭) আহত হন।
নিহতের সঙ্গী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রবিউল ইসলাম পুলিশকে জানান, হামলার সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এ ঘটনায় তাঁর শরীর ও দুই হাতে সামান্য আঘাত লেগেছে। তবে হামলাকারীদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ইতিমধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে আহত রবিউল ইসলামের জবানবন্দিতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তি কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য নাকি সাধারণ জেলে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সুষ্ঠু তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নদী এলাকা হওয়ায় ঘটনার খবর পেয়ে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সেলিম মিয়া আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে ওসি জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সেলিম মিয়া বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৯ জুন উপজেলার চরজাজিরা চরে একটি স্পিডবোট থেকে আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মাস্তান নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় পদ্মার চরে বিভিন্ন গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সংঘর্ষের জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন।











