ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৬ - ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

তীব্র তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত জনজীবন, শ্রমজীবীদের স্বস্তিতে পাশে ‘হেল্প ডোর’

  • আপডেট: Sunday, June 14, 2026 - 10:57 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে রাজশাহীর জনজীবন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। এমন চরম আবহাওয়ার মধ্যে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গভীর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তৃষ্ণার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজশাহীর সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’।

তীব্র গরমে ধুঁকতে থাকা কায়িক পরিশ্রমি মানুষ ও পথচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষণিকের স্বস্তি দিতে সংগঠনটি গ্রহণ করেছে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ‘Think Best, Do Best’ (থিংক বেস্ট, ডু বেস্ট) এই স্লোগানকে মূলমন্ত্র ধারণ করে রোববার রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সামনে এই মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

রাজপথের তীব্র উত্তাপের মাঝে দিনমজুর, রিকশাচালক ও পথচারীদের হাতে বিশুদ্ধ পানি এবং ওআরএস স্যালাইন তুলে দিয়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবল পানি বিতরণ নয়, বরং তীব্র তাপদাহের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের শরীরে যে পানি শূন্যতা ও ‘হিট স্ট্রোক’-এর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিরোধ করা। রাস্তায় একটানা কাজ করা মানুষগুলোর জন্য এই মুহূর্তে এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি ও এক প্যাকেট স্যালাইন জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মতোই জরুরি।

কর্মসূচির আওতায় এদিন প্রায় ৭০০ জন পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে এই জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের হাতে বিশুদ্ধ পানি তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি উম্মে সালমা সুখী। এসময় তাঁর সাথে মানবিক এই কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য কালাম হোসেন, তুষার, স্বরণা সরকারসহ অন্যান্য একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী।

সংগঠনের সভাপতি উম্মে সালমা সুখী এই উদ্যোগের গভীর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রচণ্ড গরমে যারা জীবিকার তাগিদে বা জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আমাদের এই সামান্য প্রচেষ্টা যদি তাদের একটুও স্বস্তি দেয়, তবেই আমাদের সার্থকতা। আমরা চাই সমাজ ও রাষ্ট্রের সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষ এবং সংগঠন এই ক্রান্তিকালে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুক।’

তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ‘হেল্প ডোর’ ভবিষ্যতেও এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, রাজপথের তপ্ত রোদের মাঝে অপ্রত্যাশিত এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। উপস্থিত পথচারী ও রিকশাচালকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই তীব্র গরমে এমন সচেতনতামূলক ও স্বস্তিদায়ক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ক্ষুদ্র এই আয়োজনটি আসলে তীব্র গরমে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস