ঢাকা | জুলাই ২৬, ২০২৬ - ১২:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইনের চেষ্টা ফের ব্যর্থ

  • আপডেট: Saturday, June 13, 2026 - 10:50 pm

স্টাফ রিপোর্টার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: রাজশাহীর চারঘাট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে পৃথকভাবে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৩৮ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান, বাধার মুখে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় বিএসএফের এই পুশ-ইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উভয় সীমান্ত এলাকায় ড্রোন, বাইনোকুলার ও বাড়তি জনবল নিয়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

চারঘাট সীমান্তে ২৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা:

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর-রাওথা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় এই চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় জেলেরা জানান, চারঘাট সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার কাগমারি চর এলাকায় প্রায় ১৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ২৩ জনকে কাগমারি ও খালিশপুর বিএসএফ ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পদ্মা নদীর ভারতীয় অংশ থেকে দুটি নৌকায় করে এসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে নৌকাগুলো বাংলাদেশ অভিমুখে অগ্রসর হতে পারেনি।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে চারঘাট সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন এবং মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকেই শুনছি বিএসএফ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। বিজিবি আমাদের সহযোগিতা চেয়েছে, তাই আমরা তাদের পাশে অবস্থান নিয়েছি। বিজিবির চারঘাট বিকল্প বিওপির কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করি। বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে পুশ-ইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

রোকনপুর সীমান্তে নদীপথে ১৫ জনকে পাঠানোর চেষ্টা:

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক ঠেলে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানিয়েছেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিএসএফ ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫ শিশুকে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। তাদের পুনর্ভবা নদীপথে একটি নৌকায় বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু নৌকাটি শূন্যরেখায় আসার পরপরই বিজিবি সামনে এগোতে বাধা দেয়। বিজিবির বাধার মুখে পরবর্তীতে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১৫ জনকে ভারতের সীমান্ত-সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, তারকাঁটাবিহীন সীমান্ত হওয়ার সুযোগে এই পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

শনিবার দুপুর দেড়টায় ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন। তবে সীমান্ত পরিদর্শন শেষে অধিনায়ক গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বশেষ তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রোকনপুর সীমান্তে রাত থেকেই জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নদী ও বিলে নৌকা এবং স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে টহল দিচ্ছে বিজিবি। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুন রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই ২৮ জন দুই দিন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানের পর অবশেষে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।