ঢাকা | জুন ১৪, ২০২৬ - ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

পাবনায় ২ হাজার ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে সমর্থকদের সাড়া

  • আপডেট: Saturday, June 13, 2026 - 10:42 pm

কলিট তালুকদার, পাবনা থেকে: শুরু হয়েছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। আর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও লেগেছে ফুটবল উন্মাদনার ছোঁয়া। নিজ নিজ পছন্দের দলকে সমর্থন জানিয়ে নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে সবসময়ই তৈরি হয় আলাদা আমেজ আর উন্মাদনা, যার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের চিরচেনা সেই উৎসবের আমেজ।

পছন্দের দলের প্রতি ভালোবাসা আর সমর্থন জানান দিতে পাড়া-মহল্লায় এখন উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। সমর্থকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে কে কার চেয়ে কত বড় পতাকা তৈরি করতে পারেন। সেই ফুটবল উন্মাদনায় এবার ২ হাজার ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের আর্জেন্টিনার পতাকা তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

গত শুক্রবার বিকেলে বিশালাকৃতির এই পতাকাটি নিয়ে প্রথমে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয় এবং পরে তা গ্রামের রাস্তায় টাঙিয়ে দেয়া হয়। সমর্থকদের দাবি, ২ হাজার ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই আর্জেন্টাইন পতাকাটি এখন পর্যন্ত শুধু পাবনা জেলাই নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিশালাকৃতির এই পতাকাটি দেখতে প্রতিদিন বালুদিয়ার গ্রামে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য আর্জেন্টাইন ভক্ত ও উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে বালুদিয়ার গ্রামের রাসেল মাহমুদ, সেলিম হোসেন ও আল আমিন হোসেন নামের তিন যুবক আর্জেন্টাইন ভক্তদের চমকে দেওয়ার মতো একটি পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা মাফিক লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই ২ হাজার ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা বানানোর সিদ্ধান্ত নেন তারা।

এই পরিকল্পনা সফল করতে বালুদিয়ার গ্রামের আর্জেন্টিনার ভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও কৃষকসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ আর্থিক সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেন। এরপর প্রায় ১০ দিন ধরে চলে এই বিশাল পতাকা তৈরির কাজ। তৈরি শেষে পতাকার ওপর বসানো হয় আর্জেন্টিনা দলের অফিশিয়াল লোগো। বিশালাকৃতির এই পতাকাটি তৈরিতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বালুদিয়ার গ্রাম জুড়ে পতাকাটি টাঙানো হয়।

উদ্যোক্তা রাসেল মাহমুদ, ফরিদ হোসেন, সেলিম হোসেন এবং আল আমিন হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা মেসির খেলা দেখে আসছি এবং সেই থেকেই আমরা আর্জেন্টিনা দলের ভক্ত। আমরা চাই, মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবারও সেই সোনালী ট্রফিটা মেসির হাতেই উঠুক। এই উন্মাদনার মধ্যেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা তাদের নান্দনিক ফুটবল উপহার দিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হোক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন, আর্জেন্টিনার ভক্তদের এমন চমৎকার উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। আমি নিজেও আর্জেন্টিনার একজন সমর্থক, তাই আজকের এই আয়োজনে তরুণদের উৎসাহ দিতে আমি নিজে এসেছি। তবে আমার আশা ও প্রত্যাশা থাকবে, সমর্থকদের এমন উন্মাদনা থেকে যেন কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।