ফিরছে সোনালী আঁশের সুদিন
স্টাফ রিপোর্টার: চাহিদা বাড়ায় গত ১০ বছরে রাজশাহীতে পাটের দাম প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরফলে আবাদও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। চলতি মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার বিঘা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবারো সোনালী আঁশের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে গত ১০ বছরে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২২ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে আবাদের আওতায় এসেছে আরও ৭ হাজার হেক্টর জমি। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেয়া ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। পাটের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে রাজশাহীতে পাটের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে ১১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে পাটের ফলন ছিল ২২ হাজার ৮৩৬ মেট্রিক টন। ১০ বছর পর ২০২৫ সালে ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৪৫ হাজার ৭৮২ মেট্রিক টন। গত ৪ বছর ধরে পাটের দাম ভালো পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।
পবা উপজেলার দুয়ারী এলাকার কৃষক কালাম জানান, জমি লিজ নেয়া, বীজ, সার, শ্রমিক, সেচসহ সব খরচ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। বিঘায় ফলন পাওয়া যায় ৯ থেকে ১০ মন। বিঘাপ্রতি খরচ বাদে গত বছর ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভ পেয়েছি।” তার এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও পাট চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এজন্য এবার তারা বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ হাজার বিঘা বেশি। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের আবাদ এখন পর্যস্ত ভালো আছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানায়, “কৃষকের উৎপাদিত পাট যেন ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হয়, সে জন্য আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। ব্যবসায়ীরা যেন অযথা দাম কমিয়ে না দেন এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয়, এ বিষয়ে বাজার কমিটিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রপ্তানিযোগ্য ফসল। তাই কৃষককে লাভবান রাখতে হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।” সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিতে ২০১০ সালের বাধ্যতামূলক পাটজাত মোড়ক আইন বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া কাঁচা পাটের রপ্তানি নীতির কারণে কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন।”
সুত্র জানায়, রাজশাহী জুট মিলসহ জেলায় মোট সাতটি জুট মিল রয়েছে। এসব মিল কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে সরাসরি পাট ক্রয় করে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পুঠিয়া উপজেলার রহমান জুট স্পিনার্সের ১০০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া রহমান জুটমিলের ২০ মেট্রিক টন, হাসেন জুট মিলের ১৮ মেট্রিক টন, নওহাটা জুট মিল ও আমান জুট ফাইবার্সের ১৫ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সব মিলিয়ে গতবছর কৃষকেরা শুধু ভালো ফলনই পাননি, পেয়েছেন কাংখিত দামও। পাটের দাম এই পর্যায়ে থাকলে আগামীতে আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, পাট চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সর্বপরি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ফলে এই অঞ্চলে পাটের আবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি ভাবে পলিব্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পাটের ব্যাগ ও বস্তা ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। যা কৃষকদের প্রত্যক্ষ ভাবে লাভবান করছে।











