ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৬ - ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বিশ্বকাপ উন্মাদনা: আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের যৌথ মোটর শোভাযাত্রা

  • আপডেট: Friday, June 12, 2026 - 11:35 pm

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর প্রিয় দলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ যখন ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে, তখন সেই উচ্ছ্বাসের ঢেউ এসে আঘাত হেনেছে রাজশাহীর রাজপথেও। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি, স্লোগান আর শতাধিক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বহরে শুক্রবার বিকালে এক বর্ণিল ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠে পুরো নগরী।

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাজশাহীর ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ফুটবল ফ্যানস অব রাজশাহীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ গ্র্যান্ড র‌্যালি’। বিকালে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি। এতে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থক, তরুণ-যুবক, ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা।

র‌্যালিতে ছিল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল পরাশক্তির পতাকার সমারোহ। কেউ প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, কেউ মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার সাজিয়ে যোগ দেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে। বিশ্বকাপের থিম সং, উচ্ছ্বাসময় স্লোগান আর সমর্থকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো নগরী যেন পরিণত হয় এক ক্ষুদ্র ফুটবল কার্নিভালে।

আয়োজকদের মতে, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ে তোলার এক অনন্য মাধ্যম। বিভিন্ন দেশের সমর্থক হলেও খেলাটির প্রতি ভালোবাসাই সবাইকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও ছড়িয়ে দিতে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন। র‌্যালিতে অংশ নেওয়া ফুটবলপ্রেমী ইমরুল হাসান বলেন, রাজশাহীতে ফুটবলপ্রেমীদের এমন মিলনমেলা সত্যিই আনন্দের। আমরা ভিন্ন ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও আমাদের পরিচয় একটাই- আমরা ফুটবলপ্রেমী। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।

খেলাধুলাকে সামাজিক সম্প্রীতি ও ইতিবাচক সংস্কৃতির বাহক হিসেবে উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবীন বলেছেন, ‘ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজশাহীর তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত ইতিবাচক। খেলাধুলা মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে এবং যুবসমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের দিকে এগিয়ে নেয়।’

প্রাইভেটকার নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেওয়া সায়েম সরকারের ভাষ্য, ‘বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে অন্যরকম উচ্ছ্বাস কাজ করে। সেই আনন্দকে সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আমরা এই র‌্যালিতে অংশ নিয়েছি। বিভিন্ন দলের সমর্থকরা একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেছেন, যা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।’ র‌্যালি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনেকে রঙিন পতাকা, সুসজ্জিত মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান অংশগ্রহণকারীদের। ফলে পুরো আয়োজন জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

বিশ্বকাপের উত্তেজনা মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও আবেগেও। রাজশাহীর এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা যেন সেই চিরচেনা ফুটবল ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, কিন্তু বিভেদ নেই। আছে শুধু খেলাকে ঘিরে মিলন, আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।