ঢাকা | জুন ১৩, ২০২৬ - ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় গৃহবধূকে বেঁধে নির্যাতন, শরীরে দেয়া হলো মরিচের গুঁড়ো

  • আপডেট: Friday, June 12, 2026 - 10:57 pm

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার জেরে হাসিনা খাতুন (৫৪) নামের এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হাসিনা খাতুন ওই গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী। বর্তমানে তিনি ও তাঁর স্বামী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাহলী বাজারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গণঅভ্যুত্থানের পর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মারধর ও জমি দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন হাসিনা খাতুন। পরবর্তীতে তাঁর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়)।

ভুক্তভোগী হাসিনা খাতুন অভিযোগ করেন, মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার জেরে আব্দুল মতিনের নির্দেশে গতকাল সকাল ৮টার দিকে একদল সন্ত্রাসী তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘরের ভেতর থেকে তাঁকে মারধর করতে করতে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে এবং একটি ডাব গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। সেখানে তাঁর চোখ, মুখ ও সারা শরীরে এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে দেয়া হয়। এমনকি তাঁর শরীরে মাদক (গাঁজার পুড়িয়া) ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাও করা হয়। এসময় তাঁর আর্তচিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এলেও সন্ত্রাসীদের হুমকিতে কেউ উদ্ধার করার সাহস পাননি। একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে তাঁর স্বামীকেও বেদম মারধর করা হয়।

ঘটনার সময় হাসিনার মেয়ে হাফেজা খাতুন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে মহাদেবপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। ঘটনার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে দড়ি ও বাঁধন কেটে হাসিনা ও তাঁর স্বামীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে আব্দুল মতিন মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে বিষয়টি নিয়ে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। এটি মূলত তাদের পারিবারিক বিষয়; চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের মধ্যেকার বিরোধ। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনার সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া এসআই মহিদুল ইসলাম জানান, তিনি অন্য একটি মামলার তদন্তে বাইরে আছেন। থানায় ফিরে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।