ঢাকা | জুন ১২, ২০২৬ - ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

বকশীগঞ্জ সীমান্তে উদ্ধার হওয়া সেই বৃদ্ধ গোদাগাড়ীর নিখোঁজ ষষ্টি বর্মন

  • আপডেট: Thursday, June 11, 2026 - 9:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের কামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের শিকার হয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামের নিখোঁজ বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন (৬৫)। দীর্ঘ তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশের এক আলোচিত সীমান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সন্ধান পেল পরিবার।

নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে সোপর্দ করে এবং তার বাংলাদেশি নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এদিকে গণমাধ্যমে ছবি ও সংবাদ দেখে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে নিজেদের স্বজন বলে শনাক্ত করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই (ললিতনগর) গ্রামের হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা ষষ্টি চন্দ্র বর্মন পেশায় একজন মৎস্যজীবী ও কৃষক। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। সন্তানদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। মাছ ধরা আর কৃষিকাজ করেই চলত তার জীবন। তবে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি।

পরিবারের ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ষষ্টি চন্দ্র বর্মন কোনোভাবে ট্রেনে চড়ে নিজ এলাকা ছেড়ে দূরবর্তী কোনো জেলায় চলে যান। তবে গোদাগাড়ী থেকে তিনি কীভাবে জামালপুর সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাসার আলী জানান, দীর্ঘদিন খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সীমান্তের খবর ও ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধই তাদের নিখোঁজ ষষ্টি চন্দ্র। প্রিয়জনের সন্ধান পাওয়ার পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মন ইতিমধ্যেই জামালপুরের বকশীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দীর্ঘ তিন মাসের অনিশ্চয়তা আর সীমান্তের শূন্যরেখায় কাটানো বিভীষিকাময় প্রহর শেষে প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে পরিবারটি।