খাল পুনঃখননের দাবি কৃষকদের: ৪ বিলে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি ৩ হাজার বিঘা জমি
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিশাল ৪টি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে ভরাট হয়ে থাকা প্রধান খালটি পুনঃখনন না করায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
ফলে হাজার হাজার কৃষক কোনো ধরনের ফসল ফলাতে পারছেন না। এই স্থায়ী সমস্যা থেকে মুক্তি ও কৃষি অর্থনীতিকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
সম্প্রতি এই দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনের দাবিতে উপজেলার কালিকাপুর মৎস্যজীবীপাড়া ব্রিজ এলাকায় ভুক্তভোগী কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একযোগে তীব্র দাবি জানান। এর আগে একটি বিক্ষোভ র্যালি গোয়ালমান্দা ঈদগাহ মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয় কৃষি ও মাঠ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালমান্দা, চকউদয় নারায়ণ, বারিল্যা ও কদমতলী বিলে প্রতিবছর বর্ষা শুরু হতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রধান খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। সরকারিভাবে এটি পুনঃখননের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় প্রতি মৌসুমে অন্তত ৩ হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে।
অনাবাদি পড়ে থাকা এই বিশাল অঞ্চলের কারণে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে ধস নেমেছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমি থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ফসল তুলতে না পারায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং তাদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভরাট হওয়া খালটি দ্রুত পুনঃখনন করা হলে অত্র অঞ্চলের কৃষি চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। একদিকে যেমন বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে, যার ফলে বিশাল এই মাঠে আমন ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, খালটি খনন করা হলে বর্ষার পানি ধরে রাখা যাবে, যা পরবর্তী সময়ে শুষ্ক বা খরা মৌসুমে কৃষিকাজে প্রাকৃতিক সেচ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।
এই স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে ও স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর (বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএমডিএ) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে খালটি দ্রুত সরকারি প্রকল্পের আওতায় এনে খনন করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় হাজারো কৃষক পরিবারকে নিয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











