ঢাকা | জুন ১০, ২০২৬ - ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ফের অশান্ত পদ্মার চর: বালুমহাল নিয়ে সংঘর্ষ স্পিডবোটে মিলল গুলিবিদ্ধ লাশ

  • আপডেট: Tuesday, June 9, 2026 - 10:16 pm

বাঘা ও নাটোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সংযোগস্থলবর্তী পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আজিজুল হক (৩৫) ওরফে ঝড় নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি স্পিডবোট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আজিজুল হক নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আবদুল শেখ ও হাসিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া অঞ্চলের বহুল আলোচিত ‘কাকন বাহিনী’র সদস্য হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্যের জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে লালপুরের চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নীল-সবুজ রঙের ও লাল ছাউনিযুক্ত স্পিডবোট ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বোটের ভেতরে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানা পুলিশ ও লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, চরে গোলাগুলির খবর পেয়ে লালপুর থানা, বাঘা থানা ও লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের যৌথ দল নাটোর, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলার সংযোগস্থলের পদ্মার চর এলাকা পরিদর্শন করে। স্থানীয়রা পুলিশকে জানান, ভোররাতের দিকে ওই চরে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বেলাল ও কাকন সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। ওই সংঘর্ষের সময়েই আজিজুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনাস্থলটি তিন জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মারামারির মূল ঘটনাস্থলটি তিন জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে হওয়ায় ঠিক কোন থানায় মামলা হবে, তা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে লাশটি যেহেতু পদ্মা নদীতে ভাসমান স্পিডবোট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মামলাটি লালপুর থানাতেই দায়ের করা হবে।