ঢাকা | জুন ৯, ২০২৬ - ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

  • আপডেট: Monday, June 8, 2026 - 11:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাতের অন্ধকারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে পোস্টার লাগিয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড, বিজ্ঞান চত্বর ও ফার্স্ট সায়েন্স বিল্ডিংয়ের দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারগুলোতে ‘আওয়ামী লীগের ওপর অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা’ এবং ‘কারাগারের দেয়াল ভাঙবে, তবুও মানুষের কণ্ঠ নয়’এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

এদিকে পোস্টারিংয়ের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব লেখেন, ‘ধন্যবাদ জিয়া হল ছাত্রলীগ! জিয়া হল দিয়ে শেষ, আবার জিয়া হল দিয়েই শুরু হলো। মতিহার সবুজ চত্বরে আবারও ছাত্রলীগ স্বমহিমায় ফিরবে।’ ঘটনাটি ‘রাবি সংসদ’ ও ‘পরিবার’ নামের দুটি ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ রাবির বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করেছে। একই দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনেও কয়েকজন লীগ কর্মী স্লোগান দিয়েছে। কয়েক দিন আগে ডাকসুর সামনেও মুখ ঢেকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব ঘটনা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘ক্যাম্পাস বর্তমানে বন্ধ। গভীর রাতে দু-একজন চোরের মতো এসে এসব কর্মকাণ্ড চালালে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। তবে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সব সময় ক্যাম্পাসে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সেই পরিকল্পনাই করে। আমরা রাজনৈতিকভাবেই এসবের মোকাবিলা করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে কে কোথায় এসে কী করে গেল, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই। আমরা মনে করি না, তারা এ ধরনের চোরাগোপ্তা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন। ক্যাম্পাসে যাতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’