ঢাকা | জুন ৯, ২০২৬ - ২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

লিফটে চলতে হয় আতঙ্ক নিয়ে

  • আপডেট: Monday, June 8, 2026 - 10:33 pm

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিফট চলতে হয় আতঙ্ক নিয়ে। এই লিফট দুটি নিয়ে দীর্ঘ সময় বিড়ম্বনায় আছেন সংশ্লিষ্টরা। আতঙ্ক নিয়েই এই লিফটে চলাচল করে মানুষ। চলতে চলতে মাঝপথে থেমে যাওয়া, কখনো বা হঠাৎ করেই ওপর থেকে নীচে পড়ে যাওয়া প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা।  এতে করে আহতও হয়েছেন অনেকেই। এছাড়াও এক দিন সচল তো  এক দিন অচল এই হলো লিফটের অবস্থা। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে মানুষের মধ্যে। এমনকি লিফট চালানোর জন্যও নেই সার্বক্ষণিক কোন অপারেটর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে ৮ তলা এই ভবনে আইনজীবী এবং বিচার প্রার্থী এবং স্টাফদের ওঠা নামার জন্য দুটি লিফট চালু করা হলেও প্রথম থেকেই দেখা দেয় নানান সমস্যা। প্রায় সময়ই অচল থাকে লিফট। এর সাথে আছে বিদ্যুতের লোড শেডিং। এতে করে বয়স্ক এবং অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী মানুষের ৮ম তলায় ওঠা-নামা হয়ে পড়ে অত্যন্ত কষ্টকর। বিষয়টি নিয়ে বারের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় দেন দরবার করলেও কোন প্রতিকার হয়নি। সমস্যা সমস্যায় রয়ে গেছে। এই লিফট দুটি রীতিমত আতঙ্কের নাম। এতে চড়তেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠে।

মাঝ পথে থেমে যাওয়া, হঠাৎ করে ওপর থেকে নীচে পড়ে যাওয়া, দরজা লক হয়ে যাওয়া প্রায় প্রতিদিনের কাহিনী। অনেকের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও আছে। মানুষ নিরূপায় হয়েই এই লিফটে উঠতে বাধ্য হয়। লিফট দুটির যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হলেও এর প্রতিকারে কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনৈক আইনজীবীর মন্তব্য দেশে তখনই হৈ চৈ পড়বে যখন কারো মারা যাওয়ার মত ঘটনা ঘটবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন শুরু থেকেই লিফট দুটিতে সমস্যা দেখা গেলেও দীর্ঘ সময়েও এর কোন সমাধান হয়নি বা এর সরবরাহকারী ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে কোন জবাবদিহিতা নজরে আসেনি। সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে অধিকাংশ সময়ই লিফটটিতে কোন না কোন সমস্যা লেগেই থাকে। এছাড়াও লিফট চালানোর জন্য কোন স্থায়ী অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়নি অস্থায়ী কর্মচারী দিয়ে চালানো হচ্ছে লিফট। তবে অতীতে যাই হোক না কেন জরুরি ভিত্তিতে এর স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগিরা।

এদিকে লিফট সমস্যাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের এজলাস সমূহ পুনর্বিন্যাসের দাবি জানানো হয়েছে  রাজশাহী আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে। গত রোববার ৭ জুন সভাপতি আলহাজ মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী স্বাক্ষরিত আইন মন্ত্রণালয় বরাবর ওই আবেদনে বলা হয়েছে রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ০৮ (আট) তলা বিশিষ্ট। বিচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ভবনটিতে যাতায়াত এবং উঠানামা করে, যেখানে লিফট প্রায়ই অচল থাকে এবং ভেঙে পড়ে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে অত্র ভবনটির প্রথম ৪ (চার)টি ফ্লোরে শুধুমাত্র ২(দুই)টি এজলাস কক্ষ রয়েছে।

আদালত ভবনটির প্রথম চারটি ফ্লোরে আদালতের বিভিন্ন অফিস এবং কনফারেন্স রুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমতাবস্থায় ভবনটির ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম এবং ৮ম ফ্লোরে অবস্থিত এজলাস কক্ষ সমূহ প্রথম ৪(চার) টি ফ্লোরে স্থানান্তর করা আবশ্যক। যার ফলে লিফট এর ব্যবহার অনেকাংশে কমে যাবে। ভবনটির নীচ তলার বিশাল গ্যারাজের অর্ধেকাংশে কোর্ট হাজতখানা ও জি.আর.ও. অফিস করা গেলে বিচারপ্রার্থী সহ সকলে উপকৃত হবে। অতএব রাজশাহী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের প্রথম ০৪ (চার) টি ফ্লোরে আদালতের এজলাস কক্ষ পুনর্বিন্যাস, গ্যারাজের অর্ধেকাংশে কোর্ট হাজতখানা এবং অফিস সমূহ চার তলার ওপরে স্থানান্তর করে আইনজীবী এবং বিচার প্রার্থীদের কষ্ট লাঘব করা জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেনের অনুলিপি সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,  রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, রাজশাহী, মহানগর দায়রা জজ, রাজশাহী, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী এবং  চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। আবেদনের বিষয়ে বারের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদীর সাথে কথা বললে তিনি জানান আবেদন করা হয়েছে।