ঢাকা | মে ২৪, ২০২৬ - ১০:৩৬ অপরাহ্ন

রাজশাহীর উভয় বিসিকের অচলাবস্থা কাটাতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান এমপি মিলনের

  • আপডেট: Sunday, May 24, 2026 - 10:28 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষে বিসিক-১ ও বিসিক-২ এর অচলবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।

রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিসিক-১ এবং বিসিক-২ এর নানা সমস্যা ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি । এ সময়ে তিনি বলেন, বিসিক-১ এর অনেক প্লট এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ঐ সব প্লটের মালিকগণ কারখানা করে না চালাতে পেরে কারখানা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। আবার অনেকে বিক্রি করে গেছেন। পরিত্যাক্ত অবস্থায় যেসব কারখানা বা প্লট পড়ে আছে সেগুলোকে নিয়ম মেনে আবারও সচল করার পরামর্শ দেন তিনি। এমপি আরো বলেন, বিসিক এর মধ্যে বেশ কিছু অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেগুলোর প্রতি ব্যবস্থা গ্রহন করার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি হাসেন আলী, বিসিক এর উপ-মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, আরডি জাফর বায়েজিদ, এস্টেট অফিসার আনোয়ারুল আজিম সেতু এবং নাসিব এর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ জ্যাকিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপস্থিত কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ বলেন, কেউ কেউ প্লট নিলেও সময় চলে গেলেও সমস্ত কিস্তি পরিশোধ করেননি। তারা আরো বলেন, বিসিকে যেহেতু অনেক প্লট, ভবন সহ পড়ে আছে, এছাড়াও প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। সেহেতু সেখানে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ যেমন, ফুড, কম্পিউটার ডিজাইন ও গ্রাফিকস, টেইলারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সফ্টওয়ার এগুলো প্রদান করা যেতে পারে।

তারা আরো বলেন, পলিটেকনিক্যাল এ যে গুলো প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় সেগুলো বাদে এই ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। বিসিক সর্বদা অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। অনেক সময় কারখানাগুলোতে চুরি হচ্ছে। এখানে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তারা সঠিকভাবে পাহারা দিতে পারছেন না। এই এলাকায় আলাদাভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ফাঁড়ি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ষোলটি গেটের মধ্যে প্রধান প্রধান চারটি গেট রেখে সবগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা বলেন।

তারা আরো বলেন, এই বিসিক এলাকায় বেশ কয়েকটি পুকুর রয়েছে। এই পুকুরগুলোর প্রটেকশন ওয়াল না থাকায় পুকুরের ধার ভেঙে যাচ্ছে। সেগুলোর প্রটেকশন ওয়াল এবং পুকুরগুলো সংস্কারের দাবি জানান তারা।

এছাড়াও বিসিক-১ এর সকল রাস্তার বেহাল দশা, রাস্তাগুলো নতুনভাবে করার জন্য বাজেট প্রদানের অনুরোধ করেন তারা। সেইসাথে ব্যাংক লোনের লভ্যাংশ এক ডিজিট এ নিয়ে আশার আহ্বান জানান। এমপি তাঁদের সবার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন। সেইসাথে বিষয়গুলো নিয়ে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি বিসিক এর এক ইঞ্চি জমিও ফেলে না রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

এরপর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার বিসিক-২ পরিদর্শনে যান। তিনি পুরো এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং প্লটগুলো দ্রুত সেল করার পরামর্শ দেন। সেইসাথে তিনি বেশ কয়েকজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এর সাথে কথা বলেন। সে সময়ে তিনি তাদেরকে বিসিক-২ তে প্লট নেয়ার আহ্বান জানালে তাঁরা প্লট নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং একজন এসে প্লট পরিদর্শন করেন।