ঢাকা | মে ২৪, ২০২৬ - ১০:২৯ অপরাহ্ন

পদ্মার অসময়ে ভাঙন, চারঘাটে নদীগর্ভে যাচ্ছে বসতভিটা

  • আপডেট: Sunday, May 24, 2026 - 10:23 pm

স্টাফ রিপোর্টার: অসময়ে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। নদীপাড়ের তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভাঙন নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন উপজেলার পিরোজপুর ও গৌড়শহরপুর এলাকার বাসিন্দারা।

তবে ভাঙনকবলিত এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি তাঁরই বিশেষ তৎপরতায় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাঙনকবলিত পিরোজপুর এলাকায় ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। এতে ভাঙনপাড়ের আতঙ্কিত মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, গৌড়শহরপুর ও রাওথা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নদীভাঙন চলছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই করাল গ্রাসে অনেকেই হারিয়েছেন পৈতৃক ভিটেমাটি ও আবাদি জমি। ইতোমধ্যে কয়েকটি গ্রামের মানচিত্র নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় নদীপাড়ে যেটুকু ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রয়েছে, তাও কখন নদীগর্ভে চলে যায়—সেই আশঙ্কায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভয়াবহ এই ভাঙন পরিস্থিতির খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাথে জরুরি যোগাযোগ করেন এবং দ্রুততম সময়ে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেন।

রোববার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ তাঁর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে আজ জরুরি ভিত্তিতে ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করেছেন। ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনে আরও জিওব্যাগ ফেলা হবে এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষ বাঁধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নদীর তীরে বসবাসকারী ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান, আনিছুর রহমান, সোলেমান আলী, ইসলাম আলী ও সুমন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে এলাকার শত শত মানুষ আজ নিঃস্ব। হারিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। কয়েক মাস ধরে অসময়ে আবার ভাঙন দেখা দেয়ায় যেটুকু মাথা গোঁজার ঠাঁই অবশিষ্ট আছে, তাও হারানোর ভয়ে প্রতি রাতে আতঙ্ক নিয়ে জেগে থাকতে হয়। তবে রোববার জিওব্যাগ ফেলায় তারা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন এবং দ্রুত স্থায়ী বাঁধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু রওশন মাসুদ বলেন, অসময়ে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের অবশিষ্ট ঘরবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদের নির্দেশনায় আমরা দ্রুত ৫ হাজার জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি।