নিয়ামতপুরে দেশীয় পাখি শিকার রোধে সচেতনতামূলক ফেস্টুন স্থাপন
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ‘পাখি গ্রাম’ হিসেবে খ্যাত ভাবিচা গ্রামে দেশীয় প্রজাতির পাখি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাখি শিকার রোধ এবং শিকারিদের সতর্ক করতে গ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘ভাবিচা সবুজ সংঘ’ ক্লাবের উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পূর্বে ছায়া-সুনিবিড় ও সবুজে ঘেরা একটি গ্রাম ভাবিচা। এই গ্রামের বন-জঙ্গল, ঝোপঝাড়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতেও পাখিরা নির্ভয়ে বিচরণ করে। যুগ যুগ ধরে এখানে পাখি আর মানুষের মধ্যে এক পরম মিতালি গড়ে উঠেছে।
ভাবিচা সবুজ সংঘ ক্লাবের সহ-সভাপতি দেবাশীষ মণ্ডল (টিপু) জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ভাবিচা গ্রামে বহিরাগত পাখি শিকারিদের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছিল। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি আমাদের নজরে আনেন। এরপরই আমরা পাখি শিকারিদের সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিই। এরই অংশ হিসেবে গ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্রামবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে, যেন তারা দেখা মাত্রই পাখি শিকারিদের বাধা দেন।
গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, পাখি আমাদের পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে আমাদের অনেক উপকার করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের অবশ্যই আগলে রাখতে হবে।
ভাবিচার সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা তুষিত কুমার সরকার জানান, কয়েক বছর আগে এই গ্রামে ঝাঁকে ঝাঁকে শামুকখোল পাখি আসায় এলাকাটি ‘পাখি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময় জাতীয় একটি দৈনিকে বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। তখন আমরা গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো শিকারিকে গ্রামে ঢুকতে দিইনি। এখন আবার দেশীয় পাখি রক্ষায় আমরা নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি।
স্থানীয় শিক্ষার্থী দ্বীপ বৈরাগী ও সূর্য হাজরা জানায়, আমরা পাখি শিকার রোধে বদ্ধপরিকর। আমাদের গ্রামে কোনোভাবেই পাখিদের ওপর অত্যাচার করতে দেব না। ফেস্টুন স্থাপনের পাশাপাশি আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামবাসীদেরও সচেতন করছি। এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন জানান, পাখি শিকারিদের আনাগোনার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।
তবে তিনি দ্রুতই খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজশাহী বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, পাখি পরিবেশের পরম বন্ধু। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে পাখি শিকার রোধে ফেস্টুন স্থাপন ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অবশ্যই একটি চমৎকার এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। পাখি রক্ষায় স্থানীয়দের যেকোনো প্রয়োজনে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।










