ঢাকা | মে ২৩, ২০২৬ - ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬শ’ কোটি টাকার বাজারে ভারতীয় গরুর শঙ্কা

  • আপডেট: Saturday, May 23, 2026 - 12:22 am

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে খামারে ও হাটে পশুর বেচাকেনা ভালো এবং দামেও সন্তুষ্ট খামারিরা। তবে এত কিছুর পরও খামারিদের মনে স্বস্তি নেই। গো-খাদ্যের বাড়তি খরচ এবং শেষ মুহূর্তে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশের শঙ্কা তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। খামারিদের দাবি, ঈদের আগে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকানো না গেলে এবার তারা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন।

বরাবরের মতোই চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেশি গরুর বাড়তি চাহিদা থাকে দেশজুড়ে। এবার সেই চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে স্থানীয় প্রস্তুতি। জেলায় এবার কোরবানিযোগ্য গরু, মহিষ ও ছাগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ যাবে ঢাকার বাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। খামারিরা জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা হরমোন ছাড়াই শুধু কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, গম ও দানাদার খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। খামারি আবু বাক্কার বলেন, খামারে এখন ঈদের আগাম ব্যস্ততা। ক্রেতাদের আনাগোনা আর দামে সন্তুষ্টি- সব মিলিয়ে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও শেষ মুহূর্তের বাজার নিয়ে ভয় কাটছে না। অপর খামারি বান্না জানান, প্রতি মণ গরু ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারলে তবেই কাক্সিক্ষত লাভ মিলবে, কারণ এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি।

রাতে অন্ধকারে আসছে গরু, উদ্বেগে খামারিরা: খামারিদের অভিযোগ, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও ভাখর আলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, মনাকষা ও আলাতুলী ইউনিয়নের তারবিহীন দুর্গম পদ্মার চর এলাকা দিয়ে রাতের আঁধারে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আসছে। এসব গরু পরবর্তীতে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর হাট, শিবগঞ্জের তর্ত্তীপুর হাট এবং নাচোলের সোনাইচণ্ডী হাটে বিক্রি করা হচ্ছে। গত সপ্তাহেও বিজিবি সীমান্তে ১৬টি বড় ভারতীয় গরু জব্দ করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুনজের আলম মানিক জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে লোকসানের মাঝেও এবার খামারির সংখ্যা ও উৎপাদন বেড়েছে। এই ধারা ধরে রাখতে গো-খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করা জরুরি।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসা. শারমিন আক্তার জানান, এবার জেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে নিবন্ধিত ১৩ হাজার ৫২২টি বাণিজ্যিক খামারে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০০টি পশু লালন-পালন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার৬০০ কোটি টাকা। খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং রোগবালাই প্রতিরোধে প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, চোরাচালান রোধে সীমান্তে কঠোর নজরদারি চলছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে রাতের টহলের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদের আগে গরু চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।