ঢাকা | মে ২০, ২০২৬ - ১০:৪৯ অপরাহ্ন

তসিকুল ইসলাম রাজার দাফন সম্পন্ন

  • আপডেট: Wednesday, May 20, 2026 - 10:33 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে গতকাল বুধবার বাদ আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী শাহমখদুম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের ও রাজশাহী লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. তসিকুল ইসলাম রাজার জানাজার নামাজ। জানাজা শেষে মহিষবাথান গোরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ড. তসিকুল ইসলাম রাজা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ অবস্থায় তিনি ঢাকায় ছেলের বাসায় ছিলেন। তাঁর মেয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর মরদেহ রাজশাহীতে আনা হয়। জানাজার নামাজ শেষে মহিষবাথান গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। ড. তসিকুল ইসলাম রাজা ছিলেন একাধারে প্রতিবাদী কবি, নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও অসাধারণ সংগঠক। আধুনিক বাংলা কবিতা, ফোকলোর, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে তাঁর গভীর গবেষণা তাঁকে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা।

তিনি ছিলেন নিরলস কলমসৈনিক- মুক্তচিন্তার এক সাহসী কণ্ঠস্বর। তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি এবং শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সাময়িকীতে। সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন বহু সম্মাননা ও পুরস্কার, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা একাডেমির সা’দাত আলী আকন্দ সাহিত্য পুরস্কার (২০২১), রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা (২০২২)সহ আরও অনেক।

১৯৫৩ সালের ১১ জানুয়ারি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে শাহমখদুম ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে ২০১৩ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।