ঢাকা | মে ১৩, ২০২৬ - ৩:১৪ পূর্বাহ্ন

বাঘায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা

  • আপডেট: Saturday, May 9, 2026 - 10:06 pm

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মাসে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। গ্রাহকদের দাবি, আগের মাসের তুলনায় চলতি মাসে অনেকের বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এসেছে। এভাবে বিল বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, গত মাসে যাদের বিল ছিল তিন হাজার টাকা, এ মাসে তা সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে আটশো বা এক হাজার টাকার বিল বেড়ে হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। হঠাৎ এমন অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

গ্রাহকদের দাবি, বর্তমানে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার কম হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া বিস্ময়কর ও অগ্রহণযোগ্য। উপজেলার আমোদপুর গ্রামের হামিদুল ইসলাম বলেন, “টানা দুই মাস বিল দিতে না পারলে লাইন কেটে দিয়ে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। অথচ প্রতি মাসেই বিল বাড়ানো হচ্ছে, যা এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের গ্রামের প্রায় প্রতিটি গ্রাহকের বিল এবার অনেক বেশি এসেছে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”

বিল বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রিপেইড ও ডিজিটাল মিটারের বিভিন্ন চার্জ নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন গ্রাহকরা। তারা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে মিটার কেনার পরও প্রতি মাসে কেন মিটার চার্জ ও ‘ডিমান্ড চার্জ’ দিতে হবে, তা অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্য একই রেট নির্ধারণের দাবিও জানান তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, দ্রুত বিল নির্ধারণ প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা এবং অতিরিক্ত বিল সমন্বয় করা জরুরি। অযৌক্তিক চার্জ প্রত্যাহার করে বিদ্যুৎ মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার দাবি জানান তারা।

জানতে চাইলে বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মনিরুজ্জামান বলেন, “বিগত মাসে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে ২৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। মূলত তীব্র গরমের কারণে ফ্যান ও এসির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল বেশি আসতে পারে। তবে আমাদের লোকজনের রিডিং লিখতেও ভুল হতে পারে। যদি কোনো গ্রাহক সন্দেহ প্রকাশ করেন, তবে অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”