ঢাকা | মে ৭, ২০২৬ - ২:৩৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারের তোয়াক্কা নেই: দুর্গাপুরে অপরিপক্ক আম পাড়ার ধুম

  • আপডেট: Wednesday, May 6, 2026 - 10:00 pm

মিজান মাহী, দুর্গাপুর থেকে: রাজশাহী জেলা প্রশাসন কর্তৃক আম সংগ্রহের সময়সূচি বা ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই রাজশাহীর দুর্গাপুরে অপরিপক্ক আম নামাতে শুরু করেছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ উঠেছে, অধিক মুনাফার আশায় এসব কাঁচা আম বাগান থেকে পেড়ে গোপন আস্তানায় কেমিক্যালের মাধ্যমে পাকানো হচ্ছে। পরে ‘রাজশাহীর আগাম পাকা আম’ হিসেবে তা বাজারজাত করে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহ থেকেই অনেক বাগানে আম পাড়ার তোড়জোড় চলছে। অথচ বাগানগুলোতে এখনও আম পাকতে শুরু করেনি। গতকাল বুধবার পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানগাড়িতে করে আম নিয়ে যাচ্ছেন বাবলু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। আম পাড়ার অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আটি (গুটি) জাতের আম, এখনও পাকেনি। আচার তৈরির জন্য এগুলো ঢাকা পাঠানো হবে। একই চিত্র দেখা গেছে কাঁঠালবাড়ীয়া গ্রামেও। সেখানে হেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যাপারী আম পাড়ার সময় দাবি করেন, গুটি আম পাড়তে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, আগাম পাড়া এসব আমের বড় অংশই কেমিক্যাল ও রঙ দিয়ে পাকিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হয়।

রাজশাহীর বৃহত্তম আমের হাট পুঠিয়ার বানেশ্বরে গিয়ে দেখা যায়, আম পাড়ার আনুষ্ঠানিক সময় না হওয়ায় বাজার এখনও ফাঁকা। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে কিছু কেনাবেচা চলছে। ফড়িয়া ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, আম পাড়ার সূচি না আসায় প্রকাশ্যে আম নামছে না। যারা আনছেন, তারা মূলত কোম্পানি বা ঢাকার পাইকারদের কাছে আচারের কথা বলে কৌশলে বিক্রি করছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া ও মাটির ভিন্নতা অনুযায়ী আম পাড়ার তারিখ নির্ধারিত হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন আগামী ১০ মে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভার ডাক দিয়েছে। ওই বৈঠকেই চলতি মৌসুমের ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হবে। গত বছর ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়া শুরু হলেও এবার ১০ দিন আগে থেকেই আম পাড়া শুরু হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহারা শারমিন লাবনী বলেন, ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রকাশের আগে আম পাড়া সম্পূর্ণ অবৈধ। অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম পাড়া ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কৃষি বিভাগকে সাথে নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, আগামী ১০ মে’র সভায় আম পাড়ার তারিখ নির্ধারিত হবে। এর আগে আম নামানো হলে তা প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হবে।