ঢাকা | মে ২৬, ২০২৬ - ৪:১৮ অপরাহ্ন

‘কোডিং’ পদ্ধতি চালু করছে রুয়েট

  • আপডেট: Tuesday, May 5, 2026 - 12:22 am

রুয়েট প্রতিনিধি: পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘ইউনিক কোডিং’ পদ্ধতি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ২ মে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। বিভাগগুলো হলো— কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং। এই তিন বিভাগে সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও বর্ষে এই পদ্ধতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

রুয়েটের একাডেমিক ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তনকে একটি যুগান্তকারী সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর বিষয়টি অন্যতম ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে খাতা মূল্যায়নে ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগ উঠলে এই দাবিটি আরও জোরালো হয়। পরবর্তীতে দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবিতে শিক্ষার্থীরা চলতি বছরের ২৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধনও পালন করেন।

১২ দফা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক শিক্ষার্থী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, অতীতে অনেক সময় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত মনোভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ছিল। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে মূল্যায়নে শতভাগ নিরপেক্ষতা ফিরবে এবং শিক্ষার্থীরা বৈষম্য থেকে মুক্তি পাবে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন নাহিদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। আমরা চাই দ্রুত এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, এই পদ্ধতির ফলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি শিক্ষকদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুয়েটকে একটি বৈষম্যহীন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।