ঢাকা | এপ্রিল ২৮, ২০২৬ - ১১:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চারঘাটে সংস্কারের অনুমতিতে চলছে পুকুরের মাটি বিক্রির হিড়িক

  • আপডেট: Tuesday, April 28, 2026 - 9:00 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর চারঘাটে পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে মাটি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এতে অসহায় হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। জমির মালিকসহ এলাকাবাসীর প্রতিবাদেও বন্ধ হচ্ছে না পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি। অভিযোগ উঠেছে, পুকুর খননকারী সিন্ডিকেটের কাছে পুকুর সংস্কারের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন। অপরদিকে এলাকাবাসীর চরম তোপের মুখে স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও সেটি মুলত লোক দেখানো অভিযানেই সীমাবদ্ধ বলে দাবি এলাকাবাসীর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে রাজশাহীর চারঘাটে ফসলি জমিতে চলছে পুকুর খনন। আর এসব পুকুর থেকে মাটি কেটে তা দেদারছে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। দিনে রাতে সমান তালে চলছে এ  অবৈধ কার্যক্রম। পুকুর খননকারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে চালাচ্ছেন খনন কাজ।

প্রশাসনের এমন ধরনের সংস্কারের অনুমতি প্রদানের ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মাটি খেকো হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বিভিন্ন সময় সংবাদ কর্মীসহ জমির মালিকরা তথ্য নিতে গেলে অনুমতির কাগজ দেখিয়ে চড়াও হচ্ছে পুকুর খননকারি সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অনেক সময় এসব সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতে সংবাদ কর্মীসহ এলাকাবাসী নাজেহাল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও বন্ধ হয়নি অবৈধ কার্যক্রম। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৫/৬টি স্থানে এখনও চলছে অবাধে পুকুর খনন।

সরজমিনে উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুরের বাকরা, নিমপাড়া ইউনিয়নের কালাবিপাড়া, শলুয়া ইউনিয়নের চামটা, চারঘাট সদর ইউনিয়নের কাকরামারী, বেলতলিসহ ৫/৬টি স্থানে দেদারছে প্রশাসনের সংস্কারের অনুমতি নিয়ে চলছে অবৈধ পুকুর খনন। চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারনে প্রশাসন কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিয়মিত দিচ্ছেন পুকুর সংস্কারের অনুমতি। এতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছ মাটি খেকোরা।

উপজেলার কালাবিপাড়া এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনের ব্যটারি জব্দ করে আনেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাহাতুল করিম মিজান। কিন্তু হঠাত ৩দিন পরেই ওই পুকুরেই সংস্কারের অনুমতি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস। এ বিষয়ে সহকারী কমশনারের বক্তব্য, আমি অনুমতি দেইনি। ইউএনও স্যার অনুমতি দিয়েছেন।

জানা যায়, এরই মধ্যে এলাকাবাসির শত বাধার পরেও ইউএনওর দেয়া সংস্কারের অনুৃমতি নিয়েই অবৈধভাবে পুকুরটি খনন কাজ শেষ করা হয়েছে। অন্যদিকে চারঘাট-বাঘা মহাসড়কের পাশে পুকুর সংস্কারের অনুমতি নিয়ে রাস্তার ধারেই প্রকাশ্যে পুকুরের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাক প্রতি বিক্রি করা হচ্ছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি রাতে একটি পুকুর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক মাটিপ বিক্রি করা হচ্ছে। যা গড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার মাটি বিক্রি করছেন মাটি খেকোরা।

এছাড়াও বেলতলি এলাকাও একই কায়দায় চলছে মাটি কাটার ধুম। এভাবে চারঘাটে একের পর এক সংস্কারের অনুমতি নিয়ে চলছে অবৈধ পুকুর খনন। আর দেদারছে বিক্রি করা হয়েছে মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায়। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন)  আইন ২০২৩ অনুযায়ী এসব অবৈধ পুকুর খনন ও সংস্কারের অনুমতি নিয়ে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা আইনগত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন অপরাধ করলেও দেদারছে চলছে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি।

এ দিকে এসব মাটি বহনকারী যানবাহনের ওজনের কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাগুলোর অবস্থাও আজ বেহাল দশা। অন্যদিকে পুকুর খনের ফলে কৃষি জমি হয়ে উঠে অনাবাদি। চারঘাটে মাটি ও মানুষের দাবি এসব পুকুর খননকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের করা হোক।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ভাবে মাটি কাটা ও খনন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহী-৬ চারঘাট বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, চারঘাট-বাঘায় কোন ধরণের অন্যায় সহ্য করা হবে না। মাটি কাটার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি স্থানীয় প্রশাসনকে।