ঢাকা | এপ্রিল ১৮, ২০২৬ - ১:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাকসু: ৬ মাসেও ইশতেহার বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি

  • আপডেট: Friday, April 17, 2026 - 10:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বিজয়ী প্যানেলের দেয়া ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। দায়িত্ব নেয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ২৪ দফার অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আবাসন সঙ্কট ও খাবারের মানের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উচ্চাশা এখন হতাশায় পরিণত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ভিপি ও এজিএসসহ ২০টিতে জয়লাভ করে শিবির-সমর্থিত এই প্যানেল। তাদের ইশতেহারের মূল বিষয় ছিল হলের খাবারের মানোন্নয়ন, আবাসন সঙ্কট নিরসন, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয় মাসে মাত্র ৪টি দফায় আংশিক অগ্রগতি হয়েছে। বাকি ৮৩.৩৩ শতাংশ প্রতিশ্রুতি এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। আবাসন সঙ্কট সমাধান বা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে রাকসু নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে।

ফিন্যান্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাব্বিরুল আজিজ আসিফ বলেন, নির্বাচনের সময় যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে প্যানেলটি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাদুঘর স্থাপন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

রাকসুর নির্বাচিত প্রার্থীরা তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি অচিরেই বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, রাকসুর নির্বাচিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে যেই ইশতেহার দিয়েছিলেন, তার অধিকাংশই কিন্তু এখনো বাস্তবায়ন করেনি। রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম কিন্তু রাকসুর কার্যক্রম দেখে আমরা সেটি ভুলে যাচ্ছি।

ফাইন্যান্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন অন্তর বলেন, রাকসু প্রতিনিধিরা তাদের মৌলিক কাজ বাদ দিয়ে অন্যান্য কাজে সময় দিচ্ছেন। তারা ভুলে যাচ্ছেন তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি। রাকসু নিয়ে আমাদের যেই প্রত্যাশা ছিল, সেটি এখন আর আমাদের মাঝে নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তীতে রাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাবেন বলে জানান এ শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে আবাসিক হলের খাবারের মানোন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ধারাবাহিক হয়নি। তবে সম্প্রতি লাইব্রেরি সংস্কারের বিষয়ে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক হলেও সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের বাইরে।

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্যানেলটি শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, হল দখল ও গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ, ম্যাগাজিন প্রকাশ, সাহিত্য আড্ডা এবং বিভিন্ন দিবস উদযাপনের মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, আবাসন সঙ্কট নিরসন, অনাবাসিক ভাতা, ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন এবং মেডিকেল সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব কাজের অগ্রগতি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।