বাঘায় পানির জন্য হাহাকার
লালন উদ্দীন, বাঘা থেকে: চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পানির সঙ্কট। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ সাধারণ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী-নালা ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মানুষ ও প্রাণিকূল উভয়ের জন্যই জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এক সময় বাঘা উপজেলার পাশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হলেও গত কয়েক বছরে গতিপথ বদলে সেটি প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে সরে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে। বর্তমানে যাদের বাড়িতে সাবমার্সিবল বা গভীর নলকূপ (মোটর) আছে, কেবল সেখানেই পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এসব বাড়িতে পানি সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই নারী ও শিশুদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পানির জন্য এখন স্থানীয়দের দৈনন্দিন সংগ্রামে নামতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় টিউবওয়েল সচল রাখতে পাঁচ থেকে ছয় ফুট মাটি খুঁড়ে নলকূপের বডি নিচে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে, তবুও মিলছে না কাক্সিক্ষত পানি। আমোদপুর গ্রামের কৃষক ফজলুল হক আক্ষেপ করে বলেন, তীব্র গরমে কাজ করতে পারছি না, আবার ঠিকমতো খাওয়ার পানিও পাচ্ছি না। মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে, কিন্তু সেখানেও সেচ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই।
পানির এই তীব্র সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। পানি শূন্যতা ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সাথে সেচ সঙ্কটের কারণে কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি এই সঙ্কটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বাঘা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার বাসিন্দারা এখনো আধুনিক পানি সরবরাহ সুবিধার বাইরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে মাটির নিচে পাইপলাইন বসানো হলেও তা আজ পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক শাম্মী আক্তার জানান, পৌরসভায় পানির লাইনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এটি চালু করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের এই কষ্ট লাঘব হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারকে এখনই কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।











