ঢাকা | এপ্রিল ১৭, ২০২৬ - ২:২৪ পূর্বাহ্ন

মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিমের পাশে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

  • আপডেট: Thursday, April 16, 2026 - 10:19 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরের সিপাইপাড়া এলাকার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী রাফিউ ইসলাম ফাহিমের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শহিদ এম. মনসুর আলী সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ লাভ করেছেন।

জানা গেছে, ফাহিমের পিতা আনোয়ারুল ইসলাম প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার স্বল্প আয়ের ওপরই পরিবারটির ভরণপোষণ চলে। ফলে মেডিকেল শিক্ষার প্রারম্ভিক ভর্তি ফি, মূল্যবান বইপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর ব্যয় বহন করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ফাহিম জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন।

আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম তাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন। এ সময় তিনি মেডিকেল শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি মূল্যবান বই উপহার দেন। এছাড়াও তিনি ভবিষ্যতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা শুধুমাত্র আর্থিক সঙ্কটের কারণে তাদের স্বপ্নপূরণ থেকে পিছিয়ে পড়ে। এমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ফাহিম তার মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা চাই, সে যেন কোনো ধরনের আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে না পড়ে। আজকে আমরা তাকে কিছু বই উপহার দিয়েছি। ভবিষ্যতেও তার শিক্ষাজীবনের প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সে যদি তার লক্ষ্য অটুট রাখে, তাহলে একদিন সে একজন দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।”

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ফাহিম বলেন,“আমার বাবা প্যারালাইজড রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত কষ্ট করে আমাদের পরিবার চালান। আমাদের সংসারের অবস্থা খুবই সীমিত। তিনি নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে আমার ও আমার বড় ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় আমার জন্য এটি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ভর্তি ফি, বইপত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর খরচ জোগাড় করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে আমি জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করি।”

তিনি আরও বলেন,“জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে যে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং সাহায্য করেছেন, তা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক হয়ে দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। জেলা প্রশাসকের এই সহানুভূতি ও সহযোগিতার জন্য আমি তার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”