জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: ভোলাহাটে ধান ও আম চাষে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ভোলাহাট প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে আম ও বোরো ধানের ভরা মৌসুমে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় অর্ধেক তেল সরবরাহ থাকায় বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক কৃষক। সময়মতো সেচ ও আম বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করতে না পারায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে ভোলাহাটে ইরি-বোরো ধানের ভরা মৌসুম চলছে। পাশাপাশি অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ধান ক্ষেতে সেচ প্রদান এবং আম গাছে নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করার জন্য ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু স্থানীয় ‘ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনে’ পর্যাপ্ত তেল না থাকায় কৃষকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। এতে চাষাবাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভোলাহাট ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল লতিফ জানান, উপজেলায় বর্তমানে সপ্তাহে তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ থেকে ৫৬ হাজার লিটার। অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ থেকে ২৭ হাজার লিটার। তিনি বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও কম। ধান ও আমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সপ্তাহে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা না হলে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।”
তেল সংগ্রহ করতে আসা একাধিক চাষী জানান, তেলের অভাবে তারা চাতক পাখির মতো ফিলিং স্টেশনের দিকে চেয়ে আছেন। সঠিক সময়ে সেচ ও পরিচর্যা করতে না পারলে ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে তারা। লক্ষাধিক আম ও ধান চাষীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে চলতি মৌসুমে আম ও ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।











